ভ্যালেন্টাইনস ডে (Valentine's Day 2022)-তে এক অদ্ভূত প্রেমের গল্প। রাজস্থানের (Rajasthan) জেলা ঝালাওয়ারেও (Jhalawar) বিয়ে দেওয়া হয়েছিল পাশাপাশি দুটি গ্রামের।  

ভারতবর্ষের মতো বিশাল দেশে বহু অদ্ভূত, অত্যদ্ভূত জায়গা রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রচলিত রয়েছে বিস্ময়কর কিছু প্রথাও। সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, প্রেম দিবস (Valentine's Day 2022), ভালবাসা উদযাপনের দিন। এমন দিনে, সারা বিশ্বের দম্পতিরা তাদের ভালবাসা প্রকাশ করে, ভালবাসার কাহিনি বলে। অসাধারণ সব গল্প শোনা যায়। এমনই এক চিত্তাকর্ষক প্রেমের কাহিনি রয়েছে রাজস্থানের (Rajasthan) জেলা ঝালাওয়ারেও (Jhalawar)। এক দুজন নয়, এই কাহিনির সঙ্গে জড়িত পুরো ৪৪টি গ্রাম!

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অবাক লাগছে? বেশ খুলে বলা যাক। ঝালাওয়ার জেলায় অন্ততপক্ষে ৪৪টি গ্রাম রয়েছে, যে গ্রামগুলির নামকরণ করা হয়েছিল ভারি অদ্ভূতভাবে। ডোব্রা-ডোব্রি, সেমলা-সেমলি - পাশাপাশি গ্রামগুলির এরকম জোড়ার জোড়ায় একটির সঙ্গে অপরটির মিলিয়ে নাম রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সুদূর অতীতে যখন গ্রামগালির নামকরণ করা হয়েছিল, সেই সময়ই পাশাপাশি থাকা গ্রামগুলিকে এক সুখি দম্পতি হিসাবে কল্পনা করা হয়েছিল। একটি গ্রামের নাম রাখা হত পুংলিঙ্গে, পাশেরটির তার সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে স্ত্রীলিঙ্গে। তাই একটি গ্রামের নাম ধানোড়া হলে, পাশের গ্রামটির নাম হয় ধানোড়ি। দৈনিক ভাস্করের এক প্রতিবেদন অনুসারে জেলার ৮টি পঞ্চায়েত সমিতির আওতায় মোট ৬১০টি গ্রাম রয়েছে। এর অন্ততপক্ষে ৪৪টি গ্রাম, স্থানীয়দের কাছে দম্পতি বলে পরিচিত।

আরও পড়ুন - ভ্যালেন্টাইনস ডে পালনের নানা মজার রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, জেনে নিন উল্লেখযোগ্য নিয়মগুলি

আরও পড়ুন - ভাড়ায় পাওয়া যায় এই 'বয়ফ্রেন্ড'কে, প্রেমদিবসে কোন সঙ্গী না জুটলেও চিন্তা নেই

আরও পড়ুন - Jadavpur University : BF-GF ছাড়া ঢোকা যাবে না যাদবপুরের 'ভ্যালেন্টাইন ফেস্টে', 'নোটিশ' ঘিরে জোর চর্চা

কীরকম হয় এই দম্পতির গ্রামগুলির নাম? গ্রামের নামগুলি হল - বারবেলা-বারবেলি, ধানোড়া - ধানোড়ি, ভিলওয়ারা-ভিলওয়ারি, কানোয়ারা-কানওয়ারী, সেমলা-সেমলি, ডোব্রা-ডোব্রি, সয়লা-সয়লি, হাটোলা-হাটোলি, রালায়তা-রালায়তি, আলোদা-আলোদি - এরকম। 

কিন্তু, কেন এমন ভাবে নামকরণ করা হয়েছিল? স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাশাপাশি থাকা গ্রামগুলির বাসিন্দাদের মধ্যে যাতে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়, সেই লক্ষ্যেই অতীতের গ্রামগুলির এমনধারা নামকরণ করেছিলেন। তাঁদের সেই উদ্দেশ্য সফলও হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গ্রামগুলির পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গ নাম দেওয়া সম্প্রীতি রক্ষায় বিস্ময়করভাবে কাজ করেছে। সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি হলেও, এই 'দম্পতি' গ্রামগুলির বাসিন্দাদের মধ্যে মারামারি বা মতভেদ বা বিবাদের মতো ঘটনা কখনও ঘটেনি। শুধু তাই নয়, এই গ্রামের বাসিন্দারা ভাতৃত্ববোধে একে অপরকে সবসময় সাহায্য করে। সুখ-দুঃখে সবসময় এক গ্রামের মানুষ আরেক গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ায়। বর-বউ ঠাট্টাও চলে দুই দম্পতি গ্রামের বাসিন্দারের মধ্যে।