Asianet News BanglaAsianet News Bangla

চেন্নাইয়ের বীরালক্ষ্মীই কি দেশের প্রথম অ্যাম্বুলেন্স চালক, চ্যালেঞ্জ কিন্তু দিচ্ছেন এক বঙ্গকন্যাও

  •  তামিলনাড়ু সরকার নতুন ১১৮টি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করল
  • তার একটির স্টিয়ারিং ধরলেন দুই সন্তানের মা  বীরালক্ষ্মী
  • তামিলনাড়ু সরকারই দাবি করেছে বীরাই ভারতের প্রথম মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালক
  • কিন্তু বীরার আগে থেকেই অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছেন হেমতাবাদের সেলিনা বেগম
Veeralakshmi officially appointed only serving woman ambulance driver in India BSS
Author
Kolkata, First Published Sep 2, 2020, 5:59 PM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

নারী বিশ্ব জয় করেছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মহাকাশ, সব খানেই আধুনিক নারীর অবাধ বিচরণ। এবার অ্যাম্বুলেন্স স্টিয়ারিংও হাতে ধরল নারীশক্তি। রাজ্যে জরুরি পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে  সম্প্রতি তামিলনাড়ু সরকার নতুন ১১৮টি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করেছে। সোমবার তার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী কে পালানিস্বামী। আর তারই একটির চাবি হাতে পেয়েছেন বীরালক্ষ্মী। তবে বীরালক্ষ্মী নিজেও জানতেন না যে তিনিই দেশের প্রথম মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালক হতে চলেছেন। তামিলনাড়ু সরকারই প্রেস বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে, ৩০ বছরের বীরালক্ষ্মীই ভারতের প্রথম সরকার স্বীকৃত মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালক।

দুই সন্তানের মা বীরালক্ষ্মী এর আগে ক্যাব চালাতেন।সংবাদমাধ্যমকে বীরা জানান, “ওই পদ খালি রয়েছে শুনে আবেদন করেছিলাম। তবে এটা জানতাম যে ইন্টারভিউতে আমি পাশ করব। কিন্তু এটা জানতাম না যে আমিই দেশের প্রথম মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালক হতে চলেছি।” 

আরও পড়ুন: ফের চিনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ, দক্ষিণ প্যাংগং লেকের সব পোস্টের দখল ভারতীয় বাহিনীর হাতেই

তবে বীরালক্ষ্মীর অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল অ্যাম্বুলেন্স চালাবেন কোনও দিন। লাগবেন মানুষের সেবাই। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, “আমি একজন গাড়ি চালক হিসেবে রাস্তাকে একেবারেই ভয় পাই না। কিন্তু আমি চাইতাম, শুধু রোজগার নয়, একই সঙ্গে মানুষের সেবাও করব। সেই সুযোগটাই পেয়ে গেলামা।”

তামিলনাড়ুতে ১০৮ নম্বর ডায়াল করে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু আছে। এবার থেকে তারই একটি চালাবেন বীরালক্ষ্মী। গত ২৪ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী ‌পালানিস্বামী বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, এই পরিষেবা উন্নত করতে ১২৫ কোটি টাকা খরচ করে আরও ৫০০ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় যুক্ত করা হবে। তারই অঙ্গ হিসেবে ২০.৬৫ কোটি টাকা খরচ করে ৯০‌টি অ্যাম্বুলেন্স ও ৩.০৯ কোটি টাকা দামে ১০টি রক্ত সংগ্রহের গাড়ি চালু করল তামিলনাড়ু সরকার। এছাড়াও একটি বেসরকারি সংস্থা কোভিড পরিস্থিতিতে রাজ্যকে ১৮টি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছে। সব মিলিয়ে ১১৮টি অ্যাম্বুলেন্স সোমবার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামী।

আরও পড়ুন: করোনা আবহে সংসদের বাদল অধিবেশনে বাতিল হল 'প্রশ্নোত্তর পর্ব', ছুটিও পাবেন না সাংসদরা

তামিলনাড়ু সরকার বীরালক্ষ্মীকে দেশের প্রথম অ্যাম্বুলেন্স চালকের তকমা দিলেও এই বাংলাতেই কিন্তু রয়েছেন এক মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালক। করোনা আতঙ্কের মাঝে যখন কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অ্যাম্বুলেন্স চালকরা সেই সময়ই নজর কাড়লেন হেমতাবাদের মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালক সেলিনা বেগম। দিন হোক কিংবা রাত কল আসলেই দ্রুতগতিতে ছুটে চলে সেলিনার গোলাপি-সাদা অ্যাম্বুলেন্স ৷

উত্তর দিনাজপুর জেলার দক্ষিণ হেমতাবাদের বাসিন্দা সেলিনার প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এমএ পাশ করার পরেও সরকারি চাকরি জোটেনি সেলিনার। বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখভালের জন্য প্রাইভেট টিউশন পড়িয়েছেন। দুই বছর আগে তৎকালীন জেলা শাসক আয়েষা রানী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে  অ্যাম্বুল্যান্সের চাবি তুলে দিয়েছিলেন।  সমস্ত চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে  ট্রেনিং নিয়ে সেলিনা এখন অ্যাম্বুল্যান্স চালক। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মানুষকে ২৪ ঘণ্টা পরিযেবা দেওয়ার জন্য ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি ছোট্ট ঘরেই আপাতত আস্তানা গেড়েছে সে।

 

Veeralakshmi officially appointed only serving woman ambulance driver in India BSS

 

উপার্জন বিশেষ নয়, তবু অ্যাম্বুলেন্সের স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে তৎপর সেলিনা বেগম। সেলিনা জানান, ‘‘ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সব সময় মাস্ক, গ্লাবস ও টুপি পড়ে অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছি। রোগী হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পরে স্যানিটাইজ়ার দিয়ে হাত ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষ্কার করছি। তবে সতর্কতা হিসেবে দীর্ঘদিন বাড়িতে ফিরিনি। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা আছে যাতে সংক্রমণ না ছড়াই তাই এই সতর্কতা। মাঝে মাঝে ফোনেই কথা হয় পরিবারের সাথে। পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাজ করছি। ভয়ে পিছিয়ে যেতে চাই না। 

সেরিনার কাজের প্রশংসা করেছেন উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন। তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে হেমতাবাদের বাসিন্দাদের পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছে সেলিনা বেগম। করোনা নিয়ে আতঙ্কের পরিস্থিতিতেও পিছিয়ে আসেনি সেলিনা। উত্তর দিনাজপুরের এই তরুণী  মহিলাদের কাছে একজন অনুপ্রেরণা। সেলিনার কাজে প্রশংসায় পঞ্চমুখ উত্তরদিনাজপুর জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধানও। 

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios