বিজেপি নেতা রণজিৎ বাহাদুর শ্রীবাস্তব সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছিলেন উত্তর প্রদেশের হাথরসের নিহত নির্যাতিতার সঙ্গে অভিযুক্তদের কোনও একজনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর পরিবারের সদস্যরা সেই সম্পর্ক মেনেনিতে না পেরেই মেয়েটিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এবার সেই একই দাবি করল হাথরস গণধর্ষণ আর হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সন্দীপ ঠাকুর। বর্তমানে বাকি তিন অভিযুক্তের সঙ্গে সেই বন্দি রয়েছে। আর জেল থেকেই উত্তর প্রদেশ পুলিশকে চিঠি লিখিছে মূল অভিযুক্ত। 

উত্তর প্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে হাথরসকাণ্ডে মূল অভি যুক্ত সন্দীপ ঠাকুর বুধবার একটি চিঠি লিখেছে। যেখানে সে ও তার তিন জেল বন্দি সঙ্গীকে নির্দোষ বলে দাবি করেছে। পাশাপাশি চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, হাথরসের নিহত নির্যাতিতার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি দলিত পরিবারটি। তাই পরিবারের সম্মান রাখায় ১৯ বছরের মেয়েটিকে পরিবারের সদ্যরাই খুন করেছে। হাথরসকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সরাসরি নিহতের পরিবারের সদস্যদেরই কাঠগড়ায় তুলেছে। বুধবার এই চিঠি হাতে পেয়েছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। সূত্রের খবর চিঠিতে চার অভিযুক্তেরই টিপ ছাপ রয়েছে।

সন্দীপ ঠাকুরের লেখা চিঠি বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল তা মেনে নিতে রাজি ছিল না দলিত পরিবারটি। ঘটনার দিন সে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করতে ক্ষেতে গিয়েছিল। আর সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিল তার মা আর ভাই। কিছুক্ষণ কথা বলেই সে সেখান থেকে চলে যায়। পরের দিন জানতে পারে তারসঙ্গে কথা বলার জন্যই দলিত পরিবারটি তাদের মেয়ের ওপর চরম অত্যাচার চালায়। সন্দীপ তরুণীকে মারধর করেনি বলেও পরিষ্কার করে জানিয়ে গিয়েছে। নিহতের মা, বাবা আর ভাই মিথ্যা কথা বলছে বলেও অভিযোগ করে সে।  উত্তর প্রদেশ পুলিশের তরফ থেকে জানান হয়েছে নিহত মহিলার ভাইয়ের সঙ্গে সন্দীপ ঠাকুরের যোগাযোগ ছিল। আর সেই প্রমান দিচ্ছে সম্প্রতি তাদের হাতে আসা একটি কললিস্ট। গত বছর অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত নির্যাতিতার ভাই ও অভিযুত্ত একে অপরকে ১০৪ বার ফোন করেছে। 

বর্তমান আলিগড় সংশোধনাগারে রয়েছে হাথরসকাণ্ডের চার অভিযুক্ত। তবে নিহতের বাবা জানিয়েছেন অভিযুক্তরা মিথ্যা কথা বলছে। নিহত মেয়ের জন্য বিচার চাইতে যাওয়ার শাস্তি হিসেবে তাঁর গোটা পরিবারেকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেছেন তাঁদের কোনও ক্ষতিপুরণের প্রয়োজন নেই। তাঁর নিহত সন্তান যেন বিচার পায়। এই আর্জি জানিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসনের কাছে।