বিলেতে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না। দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলার পর অবশেষে লিকার ব্যারন বিজয় মালিয়াকে দেশে নিয়ে আসার ছাড়পত্র পেয়েছে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার রাতেই তাকে বিমানে তোলা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে যে কোনও সময় সেই বিমানে মালিয়া ভারতে নামবেন। বুধবার রাতে এমনি খবরে আলোড়িত হয়েছিল দেশের সংবাদমাধ্যম। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল হতেই লিকার ব্যারনের ফের নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে নাটকীয়তা। সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টকে খণ্ডন করে দিয়ে বিজয় মালিয়ার শিবির দাবি করছে, যেরোন মুহুর্তে তার ভারতে আসার তথ্য একেবারেই নাকি মিথ্যা।

পলাতক শিল্পপতি বিজয় মালিয়াকে যে কোনও সময় ভারতে নিয়ে আসা হবে। বুধবার এমনটাই দাবি করেছিল ভারতের এক সংবাদ মাধ্যম। যা নিয়ে গোটা দেশে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। এমনটা জানা যাচ্ছিল, বিশেষ বিমানে  তাকে নিয়ে আসছেন সিবিআই ও ইডির আধিকারিকরা। মুম্বই বিমান বন্দরে প্রথমে তাকে নামান হবে, সেখানে একটি মেডিক্যাল টিম মালিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। তারপরে প্রাক্তন কিংফিশার কর্তাকে তোলা হবে আদালতে। এও জানা যায় মুম্বইয়ের আর্থার রোজ ডেলে মালিয়ার থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে সেই খবরে জল ঢেলে মালিয়ার ব্যক্তিগত সহযোগী জানিয়েছেন, এমন কিছু ঘটছে বলে তার জানা নেই। এমনকি বুধবার রাতের বিমানে লিকার ব্যারন রওনা দিয়েছেন এমন খবরও নেই বিজয় মালিয়ার শিবিরের কাছে।

অনেক দিন ধরেই ব্রিটেনে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন কিংফিশারের প্রাক্তন  কর্তা। ইংল্যান্ডের আদালতে ভারতে প্রত্যার্পণ ঠেকাতে মামলাও করেন মালিয়া। কিন্তু গত ১৪ মে সেই আর্জি খারিজ হয়ে যায়। এর পরেই ইডি-র তরফে জানানো হয়, খুব শীঘ্রই তাঁকে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে প্রত্যার্পণ করা হবে। ৬৩ বছরের শিল্পপতি বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে
অভিযোগ, তিনি ভারতের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ৯,৯৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে যান। তিনি নিজে অবশ্য অনেকবারই বলেছেন, সুযোগ পেলেই সব ঋণ শোধ করে দেবেন। কিন্তু তাঁকে ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ ঘোষণা করার জন্য আদালতে আবেদন জানায় এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট (ইডি)।

এদিকে মালিয়ার প্রত্যার্পণের দাবি করা সংবাদ সংস্থা এমনটাও দাবি করছিল, ভারতে ফেরার পরে লিকার ব্যারনকে  হেফাজতে নেবে সিবিআই। কেননা তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ দায়ের করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। এদিকে ব্রিটেনের ভারতীয় দূতাবাসও জানিয়েছে, এখনই বিজয় মালিয়াকে নিয়ে প্রত্যার্পণের কোনও খবর তাদের কাছে নেই। ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে জানান হয়েছে, ওই সংবাদমাধ্যম সিবিআইয়ের একটি পুরনো রিপোর্ট তুলে ধরে প্রত্যাপর্ণের দাবি করেছিল, তবে সরকারি তরফে এখনও এমন কোনও পদক্ষেপের আভাস পাওয়া যায়নি।