ফাইল থেকে উধাও একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। আর তার জেরেই পলাতক মদ ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়ার সাজা পর্যালোচনা আবেদনের মামলার শুনানি ২০ অগাস্ট পর্যন্ত স্থগিত করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল মালিয়া-কে। সুপ্রিম কোর্টের রায় আদেশ থাকা সত্ত্বেও ওই সময় তিনি তাঁর সম্পত্তি তাঁর পরিবারের নামে লিখে দিয়েছিলেন।

ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর সুপ্রিম কোর্ট বিজয় মালিয়ার অর্থ অন্য কারোর নামে স্থানান্তর করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু, সেই আদেশ লঙ্ঘন করে মালিয়া তাঁর সন্তানের নামে সব সম্পত্তি লিখে দেন। তাই তাঁকে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এরপরই মালিয়ার আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে একটি রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছিলেন।

তার তিন বছর পর গত জুন মাসে সেই মামলা সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। আদালত ওই সময় বিজয় মালিয়ার আবেদন এত দেরিতে তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রি বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিল। এতদিন কেন এই মামলাটি সামনে আনা হয়নি - দুই সপ্তাহের মধ্যে রেজিস্ট্রি বিভাগকে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। রেজিস্ট্রি বিভাগের কাজে বৈষম্যের অভিযোগে একজন আইনজীবীকে তিরস্কারও করেছিল আদালত।

এদিকে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারত থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিয়েছিলেন বিজয় মালিয়া। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকার সবরকম চেষ্টা করছে। গত ২০ এপ্রিল লন্ডন হাইকোর্ট বলেছিল, বিজয় মালিয়া ভারতে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি করেছেন এবং তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। তারপর সেই রায়েরক বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার অনুমতি চেয়েছিলেন মালিয়া। গত জুন মাসেই তাঁর সেই আবেদনও খারিজ করে দেয় লন্ডন হাইকোর্ট। তবে তারপরেও কিছু আইনি জটিলতায় বিজয় মালিয়ার প্রত্যর্পণে এখনও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।