গত ৩ জুলাই কানপুরের বিকরু গ্রামে গ্যাংস্টার বিকাশের হয়ে পুলিশের ওপর যারা গুলি চালিয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল প্রভাত মিশ্রা ওরফে কার্তিকে। কানপুর শ্যুটআউট মামলায় পরবর্তী সময়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় প্রভাতের। প্রভাতের পরিবারের তরফে পাওয়া আধার কার্ড থেকে জানা যাচ্ছে ২০০৪ সালের ২৭ মে জন্ম এই কিশোরের। দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পেয়েছিল ৭৮ শতাংশ মার্কস। এবছর দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় বসেছিল প্রভাত। গত ২৯ জুন উত্তরপ্রদেশ স্কুল বোর্ডের ফল প্রকাশ হয়। সেখানে ৬১ শতাংশ নম্বর নিয়ে দ্বদশে উত্তীর্ণ হয় বিকাশের কিশোর সহযোগী প্রভাত।

 

 

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে ,  বিকরু গ্রামের যুবক ও কিশোরদের মধ্যে  গ্যাংস্টার বিকাশের প্রভাব ছিল মাত্রাহীন। কার্তিকে দুবের প্রতিবেশীও ছিল। বিকরু গ্রামে পুলিশ হত্যার পর ফরিদাবাদ থেকে গত ৮ জুলাই বাবার সঙ্গে প্রভাত মিশ্রকে গ্রেফতার করেছিল হরিয়ানা পুলিশ। ধৃতদের থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৯এএমএম  ক্যালিবারে দুটি সরকারি পিস্তল, যা পুলিশ ব্যবহার করত। তার সঙ্গে ৪৫ রাউন্ড গুলি। 

 

১০ জুলাই পালানোর সময় পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের ডন বিকাশ দুবের। এর ঠিক একদিন আগে একই পরিণতি হয় তার কিশোরী সহযোগীরও। হরিয়ানা পুলিশের হেফাজত থেকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কার্তিকেয়কে কানপুরে নিয়ে আসার সময় পালানোর চেষ্টা করে এই কিশুর। পুলিশের পিস্তল লুঠ করে আকাশে গুলিও চালায় বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত এনকাউন্টারে মাত্র ১৬ বছরের চিরতরে থেমে যায় বিকাশ সহযোগী প্রভাত মিশ্রার দৌঁড়।

আরও পড়ুন: গ্যাংস্টার বিকাশের মত দশা হতে পারে, নিরাপত্তা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ পুলিশ আধিকারিক

তবে ৩ জুলাই ভোররাতে বিকাশ দুবের দলের সঙ্গী তার ছেলে ছিলই না বলে অভিযোগ করছেন প্রভাতের মা। ছেলে নির্দোষ দাবি করে প্রভাতের মা বলেন, সেদিন রাতে তাঁর স্বামী এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। বাড়িতে শাশুড়ি ও ছেলেকে নিয়ে তিনি ছিলেন। গ্রামে যেভাবে বিকাশ দুবেকে নিয়ে পুলিশি সক্রিয়তা বাড়ছিল তাতে কয়েকদিন কোনও প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে ছেলেক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রভাতের মা।

আরও পড়ুন: মেয়াদ শেষের আগেই নির্বাচন কমিশনারের পদ ছাড়তে চলেছেন অশোক লাভাসা, যোগ দিচ্ছেন এডিবি-তে

সেদিন রাতেই পুলিশ এসে তাঁর মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়। এরপর থেকে ছেলে কার্তিকেয়ের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি ওই মহিলা। পরে সংবাদমাধ্যমের থেকে ছেলের এনকাউন্টারের খবর পান। প্রভাতের মা দাবি করছেন ছেলে এয়ার ফোর্সে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখত। তবে সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সব শেষ হয়ে গেল।

 

তবে কানপুর রেঞ্জের ইন্সপেক্টর মোহিত অগ্রবাল জানান, হরিয়ানা পুলিশের হেফাজত থেকে প্রভাত মিশ্রাকে নেওয়ার সময় তার বয়স ১৯ বছর জানা গিয়েছিল। বিকাশ দুবে নিজের গ্যাঙে সবসময় কিশোর ও যুবকদের জায়গা দিত। সন্ত্রাসবাদীদের মতই শিক্ষিত তরুণদের প্রভাবিত করতে ওস্তাদ ছিল বিকাশ।