৮,০০০ কোটি টাকার দুটি ভিভিআইপি বিমান কেনার জন্য মঙ্গলবার মোদী সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কিন্তু, সরকারি সূত্র বলছে এই ভিভিআইপি বিমানগুলি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে, ইউপিএ সরকারের শাসনকালে।  মোদী সরকারের সময় প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

সরকারি সূত্রটির দাবি, রাহুল গান্ধী বিমানগুলিকে 'প্রধানমন্ত্রীর বিমান' বলে বর্ণনা করলেও এগুলি প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্যান্য ভিভিআইপিদের জন্যও ব্যবহার করা হবে। বিমানগুলির মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর হাতে নেই, রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে।

এদিন রাহুলের কটাক্ষের জবাবে মোদী সরকারে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১১ সালে শুরু হয়েছিল এক মন্ত্রীগোষ্ঠীর নির্দেশে সচিব গোষ্ঠীর একটি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, একটি আন্তঃমন্ত্রক গোষ্ঠী ভিভিআইপি এয়ারক্র্যাফ্টগুলির দীর্ঘমেয়াদী বিন্যাসের জন্য উপলব্ধ বিকল্পগুলি খতিয়ে দেখবে। ওই বছরই ভিভিআইপি কার্যক্রমের জন্য এই বিমানগুলির অধিগ্রহণ, পরিচালনা ও ব্যবহার সহ সকল বিকল্প বিবেচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ ও সচিবদের সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রক গোষ্ঠী (আইএমজি) গঠন করা হয়েছিল। বার দশেক বৈঠক করে ২০১২ সালে তারা দুটি বিকল্পের সুপারিশ করেছিল। বলা হয়েছিল হয় যে বি৭৭৭ইআর বিমানকে রূপান্তরিত করা যেতে পারে, অথবা এয়ার ইন্ডিয়া থেকে নতুন বিমান অর্ডার করতে হবে। ২০১৩ সালে ঠিক হয় নতুন বিমান কিনে তা ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। এরপরে, প্রক্রিয়াটি তার যৌক্তিক সিদ্ধান্তে এসেছিল।

ভিভিআইপিদের ভ্রমণের জন্য এতদিন যে এয়ার ইন্ডিয়ার জাম্বো জেটস গুলি ব্যবহার করা হতো, সেগুলি ২৫ বছরেরও বেশি পুরোনো। আটলান্টিক পেরিয়ে দীর্ঘপথ যাত্রা করে এগুলি আর পারে না। নতুন করে জ্বালানি ভরা এবং নতুন করে সরবরাহ সংগ্রহের জন্য মাঝে থামতেই হয়। এই বিমানগুলির জ্বালানী খরচও অনেক অনেক বেশি। এমনটাই জাননো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে।