সংক্ষিপ্ত
ওয়াকফ সংশোধনী বিল: বুধবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করেন। এই বিল নিয়ে সারাদিন বিতর্ক হয়। বিতর্কের পর অবশেষে রাতে ভোট হয় এবং লোকসভায় বিলটি পাশ হয়।
ওয়াকফ সংশোধনী বিল : বুধবার (২ মার্চ) লোকসভায় প্রায় রাত ১টার দিকে ওয়াকফ সংশোধনী বিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে পাশ হয়। বিলের পক্ষে ২৮৮টি এবং বিপক্ষে ২৩২টি ভোট পড়ে। এই বিল নিয়ে লোকসভায় প্রায় ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। আজ (৩ মার্চ) এই বিল রাজ্যসভায় পেশ করা হয়।
কোনো ধর্মে হস্তক্ষেপ নয়
রিজিজু বুধবার দুপুরে বিলটি পেশ করে আলোচনা শুরু করেন। তিনি বলেন, এই বিলের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মে হস্তক্ষেপ করা নয়, বরং ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা করা। তিনি পুরনো আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত ৪০ নম্বর ধারার কথাও উল্লেখ করেন। রিজিজু বলেন, ৪০ নম্বর ধারা অনুযায়ী ওয়াকফ বোর্ড যেকোনো জমিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করতে পারত। শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনালই এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারত। হাইকোর্টে আপিল করা যেত না। সেটি সরানো হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছ থেকে কোনো জমি কেড়ে নেওয়া হবে না। বিরোধীরা ভুল বোঝাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ওয়াকফ সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ হওয়ার পর রাহুল গান্ধী সবার আগে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে।
এটা কালো দিন - কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ
কংগ্রেসের সাংসদ এবং জেপিসি সদস্য ইমরান মাসুদ ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "এটা কালো দিন। এটা আমাদের অধিকারের উপর হামলা। এতে মুসলিম সম্প্রদায় এবং ওয়াকফ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই দিন ইতিহাসে কালো দিন হিসেবে লেখা থাকবে। আমরা এই বিলের বিরুদ্ধে লড়াই করব।"
বিজেপি সাংসদ ভর্তৃহরি মাহতাবের প্রতিক্রিয়া
বিজেপি সাংসদ ভর্তৃহরি মাহতাব ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "এই বিল মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয়, বরং মুসলিমদের রক্ষা করবে।"
ঐতিহাসিক বিল - প্রহ্লাদ জোশী
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী মিডিয়ার সাথে কথা বলার সময় বিলটি নিয়ে বলেন, "এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক বিল। এটি একটি বড় সংস্কার এবং সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে..."
শ্রীকান্ত শিন্ডের প্রতিক্রিয়া
শিবসেনার সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্দে বিলটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "আজ লোকসভায় একটি বিপ্লবী বিল পাশ হয়েছে... এই সংস্কারমূলক পরিবর্তন আনার জন্য আমি সরকারকে অভিনন্দন জানাই... এই বিল গরিব মুসলিমদের উপকার করবে..."
শ্রীকান্ত শিন্দে আরও বলেন, “মনিপুরের আলোচনা শুরু হওয়ার সময় রাহুল গান্ধীই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি সংসদ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। জনগণের এটা বোঝা উচিত যে তারা শুধু রাজনীতি করতে চায়...”