সনিয়া গান্ধীর উপস্থিতিতেই কি চরম অপমান করা হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে? সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন এই প্রশ্নটাই ঘুরে বেরাচ্ছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে টুইট করে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তারই জবাবে সনিয়া ও মনমোহনের আসন বিনিময় করার একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করা হয়েছে।

১১-সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে মনমোহন সিং একটি চেয়ারে বসে আছেন। দু'জন আধিকারিক এসে তাঁকে সেই চেয়ার থেকে সরে যেতে বলেন। পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ইউপিএ চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধী। পরে, তিনিই মনমোহন যে চেয়ারটিতে বসেছিলেন, সেখানে গিয়ে বসেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, 'আমলাতন্ত্রের করুণ পথ'। প্রথমবার দেখা যাচ্ছে একজন প্রধানমন্ত্রীকে অন্য চেয়ারে সরে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। পুরো ১০ বছরের শাসনকালে তাঁর কী ধরণের ক্ষমতা ছিল তা এতেই কল্পনা করা যায়।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে ভিডিওটির একটি কিফ্রেম নিয়ে গুগল সার্চে বিপরীত চিত্র অনুসন্ধান করে দেকা গিয়েছে ভিডিওটি ২০১১ সালের। সেই সময় বেশ কেকটি প্রথম সারির সর্বভারতী সংবাদমাধ্যমেই ভিডিওটি প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনাটি ঘটেছিল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঘটেছিল। ইউপিএ-র সভা চলাকালীন তখনকার ভুলবশতঃ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, সনিয়া গান্ধীর জন্য নির্দিষ্ট চেয়ারে বসে পড়েছিলেন। সনিয়া পড়ে এসে মনমোহনের জন্য নির্দিষ্ট চেয়ারে বসেছিলেন।

যে, আধিকারিকদের মনমোহন-এর কানে কানে আসন পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন, তাঁরা এসপিজি কর্মকর্তা। এসপিজি প্রোটোকল অনুসারে, নিরাপত্তার কারণে কেউ প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট আসনে বসতে পারেন না। এই ক্ষেত্রে মনমোহন এবং সনিয়া অজান্তেই একে অপরের চেয়ারে বসে পড়ায় এসপিজি-কে হস্তক্ষেপ করতে হয়। তাঁরা ভুলটি লক্ষ্য করেই প্রথমে সনিয়া গান্ধীকেই প্রধানমন্ত্রীর আসনটি খালি করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন এবং পরে মনমোহনকে সনিয়ার আসনে সরে যাওার কথা বলেন।

অর্থাৎ, সনিয়ার উপস্থিতিতে মনমোহনকে অন্য চেয়ারে চলে যেতে হলেও, তা ঘটেছিল শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রোটোকলের কারণেই। কাজেই,সনিয়ার জন্য মনমোহনকে অপমান করা হয়েছিল, বা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকে অসম্মান করা হয়েছিল, এই দাবি সঠিক নয়।