গত ক'য়েকদিন ধরে রোজ ৩০০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে নতুন রোগীর সংখ্যাএইমস-এর ডিরেক্টর বলেছেন জুন-জুলাই'এ মাথায় চড়ে বসবে করোনাতারপর স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলল, শিখতে হবে করোনার সঙ্গে বাঁচাতবে কি লড়াইতে হেরে গেল ভারত

শুক্রবার ভারতে করোনভাইরাস মামলার সংখ্যা ৫৬,৪৩২-এ পৌঁছে গিয়েছে। আর সেই কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিশেষ সচিব লব আগরওয়াল জানিয়েছেন, 'আমাদের ভাইরাস-কে সঙ্গে নিয়ে বাঁচতে শিখতে হবে, এটি একটি কঠিন লড়াই, আমাদের সবার সহযোগিতা দরকার'। লকডাউনের শুরুতে ১৮ দিনের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে ২১ দিনে করোনা-যুদ্ধ জেতার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তারপর থেকে প্রশায়নিক কর্তাদের মুখেও আশাবাদের কথাই শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু, এই দিন স্বাস্থ্যসচিবের এই কথা শোনার পর প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি লড়াইটা হেরেই গেল ভারত?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

লকডাউনের দ্বিতীয় দফায় ভারতে করোনার বাড়াবাড়ি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছিল। কিন্তু, গত তিন-চারদিন ধরে হঠাৎ করেই ইতিবাচক মামলার সংখ্যা রোজ ৩,০০০-এর বেশি হতে শুরু করেছে। এদিনও ৩৩৯০টি নতুন মামলার কথা জানিয়েছে সরকার। গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ১০৩ জনের। তার উপর দিল্লি এইমসের ডিরেক্টর ডাক্তার রণদীপ গুলেরিয়া সম্প্রতি জানিয়েছেন, জুন-জুলাই মাসে ভারতে কোভিড-১৯ রোগের দাপট সবচেয়ে বেশি হবে। অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে রোগীর সংখ্যা। তাহলে কি ভারত সত্যি সত্যিই লড়াইটা হেরে যাচ্ছে?

স্বাস্থ্য মন্ত্রক এই বিষয়ে সরাসরি কিছু জানায়নি। তারা সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিচ্ছে নাগরিকদের উপরই। লব আগরওয়াল বলেছেন, 'আমরা যদি প্রয়োজনীয় যা যা তা ঠিক মতো অনুসরণ করি তবে আমরা ওই সংখ্যায় নাও পৌঁছতে পারি এবং আমাদের রেখচিত্র ফ্ল্যাট থাকবে।' এরপরই তিনি বলেন, 'আমাদের ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচতে শিখতে হবে। এই (সামাজিক দূরত্ব) অনুশীলনগুলি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কিছু আচরণগত পরিবর্তন আনতে হবে।'

তাঁর এই মন্তব্যে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, নাগরিকদের এই কর্তব্যগুলি আছে অবশ্যই, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কী তাহলে কিছুই করণীয় নেই? প্রতিরোধের কোনও পথই কি দেখতে পাচ্ছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রক? তাদের কি কোনও পদক্ষেপে ভুল বা দেরি হয়েছে? নাহলে বারবার করে লকডাউনই করোনাভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র পথ বলা এবং দুইবার করে লকডাউনের সময় বাড়ানোর পর কেন বলতে হচ্ছে 'ভাইরাস-এর সঙ্গে বাঁচা শিখতে হবে'?