শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল, তবু তা উপেক্ষা করে বিয়ে করতে গিয়েছিলেন বিহারের এক যুবক। ভালোয় ভালোয় বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্নও হয়। তবুও তাতে শেষরক্ষা হল নি। বিয়ের পর দিনই মারা গেলেন তিনি। আর শুধু তাই নয়, মৃত্যুর আগে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অতিথিদের শরীরেও ছড়িয়ে দিয়ে গেলেন  মারণ ভাইরাস। ওই বিয়ে থেকে থেকে কমপক্ষে ১১১ জন আমন্ত্রিতের শরীরে মারণ ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিয়ে বাড়ি থেকে নিজেদের গ্রামে ফিরে যাওয়ার পর সেই গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ৷

আরও পড়ুন: দেশে ১৭ হাজার ছাড়াল মৃতের সংখ্যা, মোটা আক্রান্ত ৫ লক্ষ ৮৫ হাজারের বেশি

গোটা দেশের মতই করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ আকার নিচ্ছে বিহারে। ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তারমধ্যেই পালিগঞ্জে বসেছিল এই বিয়ের আসর। এদিকে বিয়ের কিছু দিন আগে থেকেই শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল ৩০ বছর বয়সী হবু বরের। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই ১৫ জুন বিয়ে করেন তিনি। আর বিয়ের পরেই মৃত্যু হয় তাঁর ৷ 

আরও পড়ুন: এখনি থামবে না অতিমারী, সামনে আরও ভয়াবহ দিন আসছে সতর্ক করে বলল 'হু'

সরকারিভাবে জানানো হয়েছে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে ৩৬৯ জন যোগ দিয়েছিলেন।  এর মধ্যে ৮৯ জনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে এবং ৩১ জন আগে থেকেই করোনা পজিটিভ ছিলেন বলে জানা গেছে। পাটনার পালিগঞ্জে হওয়া এই বিয়ের অনুষ্ঠান বিহারে  সংক্রমণের প্রথম ঘটনা বলে জানা গিয়েছে।

পাটনা থেকে ৫০ কিমি দূরে পালিগঞ্জের দেহপালি গ্রামের বাসিন্দা মৃত যুবক গুরুগ্রামে সফটও্যয়ার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তিনি ১২ মে বিয়ের জন্য গ্রামে ফিরে আসেন। তিলক অনুষ্ঠানের পর থেকেই তাঁর শরীরে করোনা উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়। যার ফল স্বরূপ বিয়ের পরদিনই মারা যান তিনি। প্রশাসন এই বিষয়টি জানার পর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন এমন ব্যক্তিদের খোঁজ শুরু করে। এ দিকে এই ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসন বেশ কিছু মার্কেট এলাকা সিল করে দিয়েছে ৷ বাজারে ব্যারিকেড করা হয়েছে, পাশাপাশি এলাকাবাসীকে আবেদন করা হয়েছে তারা যেন বাড়ির বাইরে না বেরোন৷