প্যাংগং-এর দক্ষিণ তীরে আবারও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় জওয়ানরা চিনের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে সুর চড়াচ্ছে বেজিং। সোমবার রাত থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বেজিং। কিন্তু কী হয়েছে সেই রাতে? সেনা সূত্রে পাওয়া খবরে জানাগেছে গুলি চলছে প্যাংগং-এর দক্ষিণ প্রান্তে। কিন্তু তারজন্য কিছুটা হলেও দায়ি চিন। 

পিপিলস লিবারেশন ওয়ের্স্টান থিয়েটারের কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল শুইলি মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনারা অবৈধভাবে প্যাংগং-এর দক্ষিণ তীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমারেখা পার হয়েছিল। চিনা বাহিনীকে টহল দিতে বাধা দিয়েছিল। আর সেই কারণেই সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছিল ভারত। চিনা সেনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সেনা বাহিনী সূত্রে খবর সোমবার রাতের অন্ধকারে আবারও গালওয়ানের ঘটনার পুনরাবৃত্তির করার চেষ্টা করেছিল চিন। কিন্তু চিনের আগ্রাসন রুখে দিয়ে সফল হয়েছে ভারতীয় বাহিনীর জওয়ানরা। 

সেনা সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, সোমবার চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা প্যাংগংএর দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে আবারও ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু টহলরত ভারতীয় সেনারা তাদের রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে। প্যাংগং-এর দক্ষিণ প্রান্তের একদম শেষদিকে  শেনপাও পাহাড়ের গায়ে লাগোয়া অবস্থায় রয়েছে গডপাও নামের একটি পাহাড়। এই পাহাড়টি  দখলের জন্য অভিযানে শুরু করেছিল চিনা সেনা। কারণ কৌশলগতকারণে এই পাহাড়টি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেনা সূত্রে খবর এখনও পর্যন্ত চার নম্বর ফিঙ্গারের অবস্থান করে রয়েছে প্রচুর চিনা সেনা। কিন্তু প্যাংগংএর দক্ষিণ প্রান্তে বেশ কয়েকটি পাহাড় রয়েছে ভারতীয় সেনার দখলে। যার মধ্যে একটি হল গড পাও।  

সেনা সূত্রের খবর গডপাও পাহাড় দখলের জন্যে একদল চিনা সেনা রড়, লাঠি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। তখন পাহাড়ের ওপর অবস্থানকারী ভারতীয় সেনারা তাদের একাধিকবার ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু নাছোড় চিনা সেনারা ভারতীয় বাহিনীর কথা অমান্য করে এগিয়ে আসতে থাকে। আর চিনা সেনার আগ্রাসন প্রতিহত করতে তখনই ভারতীয় সেনারা সতর্কতামূলক গুলি চালায়। কিন্তু চিনা সেনারা নিজেদের ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে দাবি করছে ভারতীয় সেনারা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। পাল্টা গুলিও চালিয়েছে বলে অভিযোগ চিনা সেনাদের।  ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমারেখায় গত ৮৩ দিনের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য ভারতীয় জওয়ানদের কাছে বিধ্বস্ত হতে হয়েছে চিনা সেনাদের। 
"