২৪ ঘন্টা নিরুদ্দেশ থাকার পর মিলেছে জনপ্রিয় কাফে চেইন কাফে কফি ডে-র মালিক ভিজি সিদ্ধার্থের নিথর দেহ। তিনি যে আত্মহত্যাই করেছেন, এই বিষয়ে একরকম নিশ্চিত পুলিশ। কিন্তু, গোটা ভারত জুড়ে এত বড় কফি সাম্রাজ্য গড়ে তোলা ব্যক্তিটি হঠাৎ আত্মহননের পথ বেছে নিলেন কেন এই প্রশ্নটাই এখন সকলের মাথায় ঘুরছে।

বেঙ্গালুরুরই এক মনস্তত্ত্ববিদ এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। ডা. আর শ্রীধর জানাচ্ছেন, সিদ্ধার্থর মতো ব্যক্তিরা, যাঁরা খুব নিচ থেকে অনেক উপরে উটে আসেন, তাঁরা সাধারণত নিজেদের জন্য অনেক বড় বড় লক্ষ্য স্থির করে থাকেন। আর সেই লক্ষ্যপূরণ না হলেই তাঁদের মনে ভিড় করে আসে গভীর হতাশা। আর তার থেকেই তাঁদের মন ভেহে যায়, যা মেরামত করা যায় না। ব্য়র্থ তকমা নিয়ে বেঁচে থাকার থেকে মৃত্যুকেই বেছে ননেন তাঁরা। ভিজি-র ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।

৫ লক্ষ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করে এতবড় কফি সাম্রাজ্য যিনি গড়ে তুলেছিলেন তিনি ব্যর্থ এটা হজম করা সত্যিই কঠিন। কিন্তু সিদ্ধার্থর গাড়ির চালক জানিয়েছিলেন, ফোনে সিসিডির মালিককে অনেকবার 'দুঃখিত' বলতে শোনা গিয়েছিল। তার থেকেই তাঁর মনের ভিতরে যে সঙ্কট চলছিল তা বোঝা যায় বলে জানিয়েছেন ডা. শ্রীধর।

অনেকে বলছেন, সন্তানদের কথা ভেবে তো আত্মহত্যা করা থেকে বিরত থাকতে পারতেন ভিজি। কিন্তু শ্রীধর জানিয়েছেন, জনসমক্ষে সিদ্ধার্থর যে ভাবমূর্তি ছিল, সেটা নষ্ট হতে পারে, এই ভাবনাটাই তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠেছিল। নিজের মনে ব্যর্থতার ধারণাটা বদ্ধমূল হয়ে গেলে সিদ্ধআর্থর মতো মানুষরা মৃত্যুকেই চরম লক্ষ্যে পরিণত করে। আর সেই সময় লক্ষ্য পূরণ ছাড়া আর কোনও ভাবনাই তাঁর মাথায় আসে না।

এই কারণেই মনোবিদরা বলছেন প্রত্যেকেরই উচিত নিজের সাধ্য বুঝে তবেই জীবনের লক্ষ্য স্থির করা। আর পরিস্থিতি অনুযায়ী লক্ষ্য পাল্টে ফেলার মতো নমনীয়তাও থাকা খুব জরুরী। ভবিষ্যতের কথা ভেবে দিন নষ্ট না করে বর্তমানে বাঁচার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। জীবনে সমস্যা আসবেই। সেই সমস্যা মানুষের মস্তিষ্কের জন্য চ্যালেঞ্জ। মাথা খাটিয়েই তার সমাধান করতে হবে। জীবনকে চ্যালেঞ্জ করে নয়।