বোরখার আড়ালে লুকিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন গোপন ক্যামেরা। তারপর সোজা ঢুকে পড়েছিলেন নয়া দিল্লির শাহিনবাগ-এ সিএএ-বিরোধী আন্দোলনকারীদের ভিড়ে। তাঁর উদ্দেশ্য ঠিক কী ছিল জানা না গেলেও, তা সফল হয়নি। মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্ন করায় ধরা পড়ে যায় তাঁর কারসাজি। আন্দোলনকারী মহিলারা তাঁকে ধরে ফেলে সরিতা বিহার তানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। জানা যায় তিনি ইউটিউবার গুঞ্জা কাপুর।

এখন প্রশ্ন হল কে এই গুঞ্জা কাপুর? ওড়িশার জেভিয়ার্স ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের প্রাক্তন ছাত্রী গুঞ্জা কাপুর 'পহলে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন' নামে এক সংস্থার অ্যাসোসিয়েট ফেলো। এই সংস্থাটি একটি অলাভজনক নীতি নির্ধারক থিংক ট্যাঙ্ক। গুঞ্জা কাপুরের তাদের হয়ে অতীতে আর্থিক প্রযুক্তি এবং ব্যবসায় স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে গবেষণামূলক কাজ করেছেন।

তবে তাঁর এর থেকেও বড় পরিচয় হল, তিনি একজন ডানপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক। 'রাইট ন্যারেটিভ' নামে তাঁর একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজেকে সেই চ্যানেলের কিউরেটর হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সেই চ্যানেলে সাধারণত গুঞ্জা কাপুর নিয়মিত সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করেন। ভিডিও গুলির নাম, 'হিম্মত ক্যায়সে হুই কেজরিওয়াল', 'কপিল সিবাল ৯ বার সিএএ নিয়ে মিথ্যা বলেছেন' - এরকম।

টুইটারেও বেশ জনপ্রীয় গুঞ্জা কাপুর। তাঁর ২৪,০০০-এরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। সেই ফলোয়ারদের মধ্যে বিজেপি নেতা তেজস্বী সূর্য-সহ একাধিক প্রথম সারির বিজেপি নেতারা রয়েছেন। এমনকী, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-ও তাঁর অন্যতম ফলোয়ার।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা সিএএ এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি'র বিরুদ্ধে ৫০ দিনের বেশি সময় ধরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন শাহিনবাগে। তবে শুধু স্থানীয়রাই নন, ক্রমে এই প্রতিবাদস্থল জাতীয় মঞ্চে পরিণত হচ্ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে প্রতিবাদীদের ঝুঁকিও। গত কয়েকদিনে বিজেপি নেতারা শাহিনবাদ নিয়ে একের পর এক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন। এরপর কপিল গুজ্জর এক বন্দুকবাজ গুলি চালায় শাহিনবাগে। কতার পরের দিনই ফের সূন্যে গুলি চলে ওই এলাকায়। তার আগে আরেক বন্দুকবাজ প্রতিবাদস্থল খালি করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তারপরই বুধবার সেখানে আসেন গুঞ্জা।