শুক্রবার সন্ধ্যায় ৭টা ৩৮ মিনিট নাগাদ কেরলের কোঝিকোড়ের করিপুর বিমানবন্দরে বড়সড় দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান। বন্দে ভারত মিশনে ৬জন ক্রু-সহ মোট ১৮৪ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি দুবাই থেকে আসছিল। নামার সময় রানওয়ে পার করে ছিটকে গিয়ে একটি ৩০ ফুট গভীর খাদে পড়ে বিমানটি। ঘটনাস্থলেই এক পাইলট সহ অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও অনেকে। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

এই বিষয়ে বিশদ তদন্তচের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক ডিজিসিএ। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে সম্ভবত অতিবর্ষণই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ। গত কয়েকদিন ধরেই গোটা কেরল জুড়েই তীব্র বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শুক্রবার সকালেই অতিবৃষ্টিতে ভূমিধ্বস নেমেছিল রাজ্যের মুনার এলাকায়। বহু মানুষের হতাহতের খবর এসেছিল। এখনও অনেকেই আটকে আছেন। রাজ্যের বহু জায়গাতেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এই অতি বর্ষণে নানাভাবে চেষ্টা করেও রানওয়েটিকে পরিষ্কার রাখা যাচ্ছিল না। বর্ষার জলে পিছল হয়ে ছিল রানওয়ে। তাতেই বিমানটি অবতরণের পর গতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

আবার বর্ষার কারণে পাইলটদের রানওয়ে দেখার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ডিজিসিএ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বিমানবন্দরের দৃশ্যমানতা প্রায় ২০০০ মিটার ছিল। একটানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে চারিদিক সাদা হয়ে ছিল।

আরও একটি কারণ হতে পারে এই কোঝিকোড় বিমানবন্দরের অবস্থান। উড়ান বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি একটি টেবিলটপ বিমানবন্দর। অর্থাৎ রানওয়ে-সহ বিমানবন্দরটি একটি উঁচু মালভূমির উপর অবস্থিত। এতে করে পাইলটদের অনেকসময় রানওয়েতে দৃষ্টিবিভ্রম ঘটে। রানওয়ের শেষে যে খাদ রয়েছে তা তারা বুঝতে পারেন না।

এই তিনটি কারণের সম্মিলিত প্রভাবেও এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন কোঝিকোড় বিমানবন্দরের ১০ নম্বর রানওয়ে-তে নেমেছিল বিমানটি। অবতরণের সময় কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু এরপর দেখা যায় বিমানটি কোনওভাবেই থামতে পারছে না। অবশেষে রানওয়ের পার করে ৩০ ফুট গভীর খাদে গিয়ে পড়ে বিমানটি দুটি অংশে ভেঙে যায়। বিমানের সামনের অংশটিও পুরোপুরি ভেঙেচুরে গিয়েছে।