বহু স্বপ্ন দেখিয়েছিল মহাজোট। ভোটে না দাঁড়িয়েই  নিজেকে প্রধামন্ত্রী পদের দাবিদার বলেছিলেন মায়াবতী। কিন্তু  ফল বেরোতেই ফানুস চুপসে গিয়েছে।  মুখ থুবড়ে পড়েছে মহাজোট। তার জেরেই অখিলেশের 'অপয়া' হাত ছাড়তে মরিয়া মায়াবতী। সোমবারই দলীয় বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন এই জোটের ওপর আস্থা হারিয়েছেন তিনি। ফলে সামনের বিধানসভা উপনির্বাচনে একাই লড়বে বিএসপি।
কিন্তু কেন এত তাড়াতাড়ি  শেষ হল মধুমাস? 

যাদবদের সঙ্গে গাঁটছড়ার ফল

গত সোমবারই সাংবাদিকদের সামনে এসে মায়াবতী জানিয়ে দেন অখিলেশের সঙ্গে জোট করা ভুল হয়েছে। যাদবরা ভোট দেয়নি কোথাও। তথ্য বলছে, এই লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে ৮০ টি আসনে ৬২ টি আসন পেয়েছে। ন্যূনতম ২০টি আসনের পরিকল্পনা থাকলেও মায়াবতী পেয়েছেন মাত্র দশটি আসন। এই অবস্থায় অখিলেশের হাত ছাড়লে অনেক স্বাধীন ভাবে লড়া যাবে এমনটাই মনে করেন মায়াবতী।

নাই মামার থেকে কানা মামা ভাল

আম্বেদকরনগর থেকে ভোটপ্রচারের সময়ে বড়মুখ করে মায়াবতী বলেছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার। মায়াবতী অতি দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি ৩০৩টি আসন পাবে দেশজুড়ে বিজেপি। এবার তাঁর পাখির চোখ বিধানসভা ভোট। সেখানে অখিলেশ তাঁকে এমন কোনও সাহায্য করতে পারবে না বলেই মনে করছেন মায়াবতী।

মোদী ম্যাজিক

ভোটপ্রচারের প্রথম দিন থেকেই এই জোটের বিরুদ্ধে মত দিয়েছিলেন মোদী। মুলায়ম সিংহ-র প্রশংসা করেও মোদী বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, সমাজবাদী দল যে পরিমাণ অবমাননা করেছে বহুজন সমাজবাদী দলকে , তা কী করে ভোলেন মায়াবতী। মোদীর সেই বিভেদের বীজ গাছ হওয়ার আগেই, নিজস্ব ভোটব্য়াঙ্ক হারানোর ভয়েই একলা চলতে চাইছেন মায়াবতী।

নিজস্ব ব্র্যান্ডিং

মায়াবতী ভালই জানেন তাঁর ইউএসপি তিনিই। অনেকটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢঙে ব্যাক্তিগত করিশ্মায় কাশীরামের দলকে এই জায়গায় এনেছেন মায়াবতী। এই আইকন হয়ে ওঠার রাজনীতিতে আর আলগা করতে চাইছেন না তিনি।