দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। শুক্রবার রেকর্ড গড়ে একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। পরিস্থিতি সামলাতে দেশে লকডাউনের মেয়াদ আরও ২ সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। তার পরেও অবশ্য এমন অনেকেই রয়েছেন যার লকডাউনের বিষয়টি নিয়ে একেবারেই সিরিয়াস নন। যখন তখন বাইরে বেরিয়ে পড়ছেন। করোনা রুখতে যেহেতু এখনও কোনও ওষুধ আবিষ্কার হয়নি তাই সামাজিক দূরত্বের কথা বারবার বলা হচ্ছে। সেই নিয়নকেও অনেকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছে। শুধু তাই নয় অনেকেই রোগ গোপন করছেন, চলছে দেশের করোনা যুদ্ধে সামনে থেকে লড়া চিকিৎসক ও পুলিশের উপর আক্রমণ। এই ঘটনা তাদের শিক্ষা দেবে, যার বিশ্বে মহামারীর পরিস্থিতি তৈরি করা করোনা ভাইরাসকে একেবারেই হালকাভাবে নিচ্ছেন। 

যারা করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন তারাই বুঝতে পারছেন পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। সম্প্রতি হরিয়ানার রোহতকের বাসিন্দা এক দম্পতি করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। দু'জনের মধ্যে ইতিমধ্যে মহিলা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁর স্বামী। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল থেকে মহিলাকে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ করেই নার্সের পা জড়িয়ে ধরেন ওই মহিলা। সঙ্গে আকুতি, 'ঠিক করে দাও আমারা স্বামীকে।'

রেড জোনের সংখ্যা নিয়ে বিরোধ, সংশোধিত তালিকা দাবি করে কেন্দ্রকে চিঠি বাংলার স্বাস্থ্যসচিবের

দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ হাজার ছাড়াল, দিল্লিতে করোনার শিকার সিআরপিএফের ১২২ জন জওয়ান

পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেড়াতে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন, প্রধানমন্ত্রীকে কুর্ণিশ সাংসদের

পিজিআই-এর বাইরে নার্সেপ পা জড়িয়ে ধরেন মহিলা। রোহতকের কাকরানা গ্রামের বাসিন্দা ওই মহিলা হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ছিলেন।  বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। সুস্থ হয়েছেন বলে আনন্দের কোনও লক্ষণ ছিল না তাঁর মধ্যে, বরং হাসপাতাল থেকে বেরিয়েই নার্সের পা জড়িয়ে ধরেন তিনি। স্বামীর কথা ভেবে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তিনি। ওই হাসপাতালেই করোনার চিকিৎসা চলছে  মহিলার স্বামীরও। কান্না ভেজা গলায় মহিলা নার্সকে বলতে শুরু করেন, দেশের চিকিৎসাকর্মীরা তাঁর কাছে ঈশ্বর। তাঁরা যেন তাঁর স্বামীকেও সুস্থ করে তোলেন। স্বামীকে ছাড়া তাঁর আর কাছের বলতে কেউ নেই। যদিও জানা গেছে, মহিলার এক ছেলে রয়েছেন, তিনি রেওয়াড়িতে থাকেন। করোনা সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা ওই মহিলা আরও জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা তাঁর সবসময় খেয়াল রাখত। 

জানা যাচ্ছে, ওই মহিলার স্বামী ক্যানসারে আক্রান্ত। পিজিআইতেই চিকিরসা চলছে তাঁর। মহিলার ইমিউনিটি পাওয়ার বেশি থাকায় তিনি ৭ দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামীর দিল্লিতে ক্যানসারের চিকিৎসা চলত। চিকিৎসার জন্য স্বামীকে নিয়ে তিনি মাঝে মধ্যেই দিল্লি যেতেন। ২২ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার তাঁদের দু'জনরেই পজিটিভ ধরা পড়ে। 

কোভিড ১৯ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ চিকিৎসক বরুণ অরোরা জানিয়েছেন, ওই মহিলা খুবই বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। দিল্লি থেকে ফেরার পরেই তিনি বুঝতে পারেন সংক্রমণ ছড়িয়েছে শরীরে, তাই গ্রামের বাড়িতে না ফিরে সোজা হাসপাতালে চলে আসেন তিনি। এমনকি এই সময়ে তিনি কারও সংস্পর্শেও আসেননি।