আশঙ্কাই হল সত্যি। গত ২১ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে, দিল্লি বিমানবন্দরে কোভিড ইতিবাচক সনাক্ত হওয়ার পরও, কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছিলেন যে মহিলা, তাঁর দেহে মিলল যুক্তরাজ্যে উদ্ভূত করোনার নতুন স্ট্রেন। তিনদিন পর ২৪ ডিসেম্বর তাঁর সন্ধান পেয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তার মধ্যে তিনি দিল্লি থেকে ট্রেন ধরে অন্ধ্রপ্রদেশে পৌঁছে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তাঁর নমুনার জিনোম সিকেয়েন্সিং-এ যুক্তরাজ্য়ের নতুন রূপান্তরটি সনাক্ত হওয়ার পর, এই নতুন স্ট্রেন এবার ভারতে ছড়িয়ে পড়বে বলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সত্যিই কি পরিস্থিতি ভয় পাওয়ার মতো?

অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য থেকে তাদৈর রাজ্যে ফেরা আরও এগারোজন যাত্রীর করোনা পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে। তবে একমাত্র ওই মহিলার দেহেই ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রমণযোগ্য করোনাভাইরাস রূপান্তরটি সনাক্ত হয়েছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, একমাত্র তিনিই কোয়ারেন্টাইনে না থেকে রেলের মতো অতি-যোগাযোগের জায়গা দিয়ে পালিয়েছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে তাঁর সংস্পর্শে আসা কেউই করোনা পজিটিভ নন। তাঁর পুত্রের করোনা পরীক্ষার ফলও নেতিবাচক এসেছে। তাই অন্ধ্রে যুক্তরাজ্যের নতুন করোনভাইরাস স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়েছে, এই জাতীয় আতঙ্কের কোনও যুক্তি নেই বলেই দাবি করেছে রাজ্য সরকার।

এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে এখনও অবধি যুক্তরাজ্যের করোনাভাইরাস রূপান্তর পাওয়া গিয়েছে মোট ছয় ভারতীয় যাত্রীর দেহে। ২৫ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৩৩,০০০ যাত্রী যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ১১৪ জন কোভিড পজিটিভ হিসাবে সনাক্র হয়েছেন। আপাতত দ্রুত তাঁদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং চলছে। আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করার জন্য এই যাত্রীদের এবং তাঁদের সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তিবর্গের সন্ধান চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির প্রশাসন।