ভারতে মেয়েরা নিজেদের সুরক্ষার জন্য আইনিভাবে বেশ কিছু জিনিস সঙ্গে রাখতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে পার্সোনাল অ্যালার্ম, ট্যাকটিক্যাল ফ্ল্যাশলাইট, পেন এবং পেপার স্প্রে।
আজকাল নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে ভারতীয় মেয়েরা অনেক বেশি সচেতন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েদের আত্মরক্ষার বেশ কিছু আইনি হাতিয়ার নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে পার্সোনাল অ্যালার্ম কিচেন, ট্যাকটিক্যাল ফ্ল্যাশলাইট, ট্যাকটিক্যাল পেন এবং পেপার স্প্রে অন্যতম। বিপদের সময় নিজেকে বাঁচাতে এই জিনিসগুলো দারুণ কাজে দেয়, আর এগুলো রাখা পুরোপুরি আইনি।
নারী নিরাপত্তা নিয়ে এখন সব জায়গায় কথা হচ্ছে। তাই আত্মরক্ষার এই উপায়গুলোও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভারতীয় আইনে আত্মরক্ষার অধিকার বা 'প্রাইভেট ডিফেন্স'-এর কথা স্পষ্ট বলা আছে। বেআইনি হামলার হাত থেকে বাঁচতে যে কেউ নিজের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় জোর খাটাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, বিপদের মাত্রা বুঝেই যেন পালটা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সহজে বহনযোগ্য কাজের জিনিস
বিপদে পড়লে সবার নজর কাড়তে চান? পার্সোনাল অ্যালার্ম কিচেন কিন্তু খুব ভালো আর আইনি একটা উপায়। এগুলো থেকে ১২০ থেকে ১৪০ ডেসিবল মাত্রায় জোরালো শব্দ বের হয়। এই আওয়াজে আশেপাশের সবাই সতর্ক হয়ে যায়, আর হামলাকারীও ভয় পেয়ে পালায়। ছোট্ট এই যন্ত্রটা আপনি সহজেই নিজের হ্যান্ডব্যাগ বা চাবির রিংয়ে আটকে রাখতে পারেন।
আত্মরক্ষার জন্য ট্যাকটিক্যাল ফ্ল্যাশলাইটও খুব কাজের। আইনে এর আলোর জোর বা লুমেন নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। তবে ১০০০ লুমেনের বেশি আলো হলে, সেই তীব্র আলোয় যে কোনো হামলাকারীর চোখ ধাঁধিয়ে যেতে পারে। এগুলোর পেছনে সাধারণত একটা বোতাম থাকে, যা দিয়ে চটজলদি আলো জ্বালানো যায়।
সামনাসামনি লড়াইয়ে আত্মরক্ষা
কেউ খুব কাছে চলে এলে কীভাবে বাঁচবেন? এর জন্য ট্যাকটিক্যাল পেন রাখা একদম আইনি। এই বিশেষ ধরনের পেনের মুখটা বেশ শক্ত হয়। সামনাসামনি লড়াইয়ের সময় হামলাকারীর বুক, ঘাড় বা হাতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এটা দিয়ে জোরে চাপ দেওয়া যায়। এতে কারও মৃত্যু হয় না ঠিকই, কিন্তু আত্মরক্ষার জন্য এটা দারুণ কাজ করে।
ভারতীয় মেয়েদের কাছে আত্মরক্ষার সবচেয়ে পরিচিত আইনি হাতিয়ার হলো পেপার স্প্রে। এটা সাময়িকভাবে হামলাকারীকে কাবু করে দেয়। কীভাবে? চোখেমুখে তীব্র জ্বালা, সাময়িক অন্ধত্ব আর শ্বাসকষ্ট তৈরি করে। আর এই সুযোগেই আপনি সেখান থেকে পালানোর সময় পেয়ে যাবেন।
যাতায়াতের সময় সঙ্গে রাখুন
যারা রোজ যাতায়াত করেন, তাদের জন্য সুখবর। শহরের ভেতরে যাতায়াতের সময় আপনি সাধারণত এই জিনিসগুলো সঙ্গে রাখতে পারেন। যেমন, মেট্রোতে পেপার স্প্রে নিয়ে ওঠা যায়। বেঙ্গালুরু মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (BMRCL) মেয়েদের সুরক্ষার জন্য ট্রেনে পেপার স্প্রে রাখার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে। তবে মনে রাখবেন, পেপার স্প্রে যেন সিল করা থাকে, ১০০ মিলিলিটারের কম হয় এবং ব্যাগের এমন জায়গায় থাকে যেখান থেকে দরকারের সময় চট করে বের করা যায়।
তবে এগুলো নিয়ে ভুলেও বিমানবন্দরে যাবেন না। বিমানবন্দরে এই ধরনের জিনিস নিয়ে ঢোকা কড়াভাবে নিষিদ্ধ। বাণিজ্যিক ফ্লাইটে কেবিন বা চেক-ইন, কোনো লাগেজেই পেপার স্প্রে বা এই জাতীয় জিনিস নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় না বিমান সংস্থাগুলো। সারা বিশ্বেই বিমানের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয়।
মোদ্দা কথা হলো, এই হাতিয়ারগুলো মেয়েদের নিজেদের সুরক্ষা নিজেদের হাতে তুলে নিতে সাহায্য করে। ভারতীয় আইনের গণ্ডির মধ্যেই এগুলো ব্যবহার করা যায়। এই নিয়মগুলো জানা থাকলে মেয়েরা খুব সহজেই এবং আইনি পথে নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন।


