এতদিন ভারতের বন্ধুত্বের স্বাদ পেয়েছিল চিন। কিন্তু, গত ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের প্রকৃত সীমান্তরেখার কাছে গালওয়ান উপত্যকায় চিনা বাহিনীর হাতে ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের শহিদ হওয়ার ঘটনা দুই দেশের সমীকরণটা বদলে দিয়েছে। তারপর থেকে শত্রুতা না হলেও ভারতের প্রতিরোধের স্বাদ পেয়েছে বেজিং। আর তাতেই ঢোক গিলতে শুরু করেছে জিনপিং প্রশাসন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত সান ওয়েডং-এর দেওয়া সাক্ষাতকারেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

সুর অনেকটাই নামিয়ে চিন এখন বলছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সঠিক পথে আনতে ভারত ও চিনের দুই দেশেরই এগিয়ে আসা উচিত। সান ওয়েডং-এর মতে 'একটি ঘটনা'র কারণে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীকে শত্রু বা হুমকি হিসাবে গণ্য করলে ভারত খুব ভুল করবে। কারণ চিন ও ভারত একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বীদের নয় বরং অংশীদার। তাই দুই দেশের জোর করে আলাদা হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে চুম্বকের মতো একে অপরকে আকৃষ্ট করা উচিত। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সমর্থন এবং রাজনৈতিক বিশ্বাস বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

গালওয়ানের ঘটনার পর থেকে চিনকে অর্থনৈতিকভাবে আঘাত করার লক্ষ্যে ভারতের চিন-নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। মোবাইল অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রেল ও সড়কের বেশ কিছু প্রকল্পের বরাত কেড়ে নেওয়া হয়েছে চিনা সংস্থাগুলির কাছ থেকে। এমনিতেই কোভিড মহামারির কারণে ধাক্কা খেয়েছে চিনা অর্থনীতি। তার উপর ভারতের মতো বৃহৎ বাজারের এই চিন-বয়কট প্রবণতায় যে তারা বেশ বড় রকম ধাক্কা খেয়েছে তাও প্রমাণ হয়ে গিয়েছে চিনা রাষ্ট্রদূতের কথায়। তিনি বলেছেন, ভারত বা অন্য কোনও দেশ যদি চিনা সংস্থাগুলিকে সীমাবদ্ধ করে রাখে, সেই ক্ষেত্রে সেইস দেশই নিজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।
 
উত্তেজনার মধ্যেও ভারত-চিন সম্পর্কের বিষয়ে চিনের নীতি অপরিবর্তিতই রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, গালওয়ানের সংঘর্ষের পরে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের চ্যানেলগুলি উন্মুক্ত ও মসৃণ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং দুই দেশের সম্পর্কের দিকনির্দেশনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।