দেশে ক্রমশই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।  পাল্লা দিয়ে বিশ্বেও আক্রান্তের সংখ্য়া বাড়ছে। মহামারির হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বহু মানুষই করোনাভাইরাসের প্রতিষেধকের অপেক্ষায় দিন গুণছেন। কিন্তু এই অবস্থায় রীতিমত দুঃসংবাদ দিল বিশ্বের প্রথম সারিতে থাকা প্রতিষেধক প্রস্তুতকারী সংস্থা। সোমবার পুনের সেরাম ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক সরবরাহ করা সম্ভব নয়। যার অর্থ হল প্রতিষেধক যদি আগামী বছরের গোড়ার দিকে তৈরিও হয় তাহলেও বিশ্ববাসীকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আরও বছর তিনের অপেক্ষা করে থাকতে হবে। 


সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান আদার পুনেওয়ালা রীতিমত সতর্ক বলেলেছেন করোনাভাইরাসের প্রতিষেধকটি যদি দুটি ডোজের হয় হবে বিশ্বের চাহিদা পুরণের জন্য প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডোজের প্রয়োজন হবে। তাই বিশ্বের প্রতিটি বাড়িতে প্রতিটি মানুষের কাছে প্রতিষেধক পৌঁছে দিতে নূন্যতম চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। কারণ দ্রুততার সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে প্রতিশেষধক তৈরির ক্ষমতা এখনও পর্যন্ত বিশ্বের কোনও সংস্থার নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। এত দ্রুত হারে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলাও সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। সেরাম বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিষেধক প্রস্তুতকারক সংস্থা। আগেই তারা জানিয়েছিল এক বিলিয়ন টিকা তারা প্রস্তুত করবে। যার অর্ধেক ভারতে ব্যবহার করা হবে। 

রবিবারই একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেছিলেন আগামী বছর গোড়ার দিকেই করোনার প্রতিষেধক তৈরি হয়ে যেতে পারে। হর্ষ বর্ধনের মতকে সমর্থন করেছেন সেরামের প্রধান আদার পুনেওয়ালা। তবে তিনি জানিয়েছেন করোনার প্রতিষেধকের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাষ্ট্রনেতারাও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বেশ কয়েকটি সংস্থা পরীক্ষানীরিক্ষার স্তবে আছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দুটি বিষয় সমান্তরাল পর্যায় পৌঁছাতে পারেনি। 

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আর সুইস সংস্থা অ্যাস্ট্রোজেনেকার সঙ্গে করোনা প্রতিষেধর কোভিশিল্ড তৈরিতে চুক্তিবদ্ধ সেরাম।  পাশাপাশি নাভাভ্যাক্সসহ আরও পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে ইতিমধ্যেই চুক্তি করেছেন সেরাম। সংস্থাটি রাশিয়ার গামালিয়ার সঙ্গেই চুক্তি করতে পারে বলে সূত্রের খবর। সেই চুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই ১ কোটি প্রতিষেধক তৈরি লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংস্থাটি।