সোমবার সন্ধ্যায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা, আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিং এবং আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। লকডাউনের চতুর্থ দফার প্রথম দিনটিতেই তাঁরা নয়াদিল্লির রাজঘাটে ধরনায় বসেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে ডাকা হোক ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে। তারপরই এদিন সন্ধেবেলা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী-সহ অন্যান্য়দের আটক করা হয়।

প্রাক্তন বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী। তবে তিনি একেবারে প্রথম থেকেই নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের তীব্র সমালোচক।

এদিন ধরনাস্থল থেকে তিনি বলেন, কেন্দ্রের হোক কিংবা রাজ্যের, বেসামরিক কর্তৃপক্ষগুলি পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ। তাদের রাস্তায় মাইলের পর মাইল হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছে। এইভাবে অনেক শ্রমিকের মৃত্যুও ঘটছে। এই অবস্থায় তাঁদের দাবি, সশস্ত্র বাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীকে তাদের অধীনে থাকা সমস্ত সংস্থান এবং নাগরিক সম্পদ ব্যবহার করে, এই অভিবাসী শ্রমিকদের প্রাপ্য মর্যাদার সঙ্গে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিতে হবে।

প্রাক্তন বিজেপি নেতা আরও বলেন, তাঁদের দাবি যতক্ষণ না মানা হবে, তাঁরা ওই ধরনা চালিয়ে যাবেন। তবে, সন্ধ্যা নামতেই দিল্লি পুলিশ যশবন্ত সিনহা-সহ বাকি নেতাদের আটক করে নিকটস্থ থানায় নিয়ে যায়।

আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেন, বিজেপির ভাবনা শুধু ধনীদের নিয়ে। তিনি বলেন, 'সরকারের কোনও কৌশল নেই কারণ তাদের পরিযায়ী (শ্রমিক)-দের সহায়তা করার ইচ্ছা নেই। বিজেপি একটি দরিদ্রবিরোধী সরকার। আপনি বিদেশ থেকে লোক ডেকে আনতে পারেন কিন্তু, রাস্তায় হেঁটে যাওয়া পরিযায়ী (শ্রমিক)-দের সাহায্য করতে পারেন না। চলমান সংকটে এটাই প্রমাণিত হয়েছে'।

আরেক আটক হওয়ার আপ নেতা তথা দিল্লির বিধায়ক দিলীপ পান্ডে বলেছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি সরকারের সংবেদনশীল হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রের প্রতিদিন ২০,০০০ ট্রেন চালিয়ে সারাদেশে ২.৩ কোটি লোককে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য করার জন্য সরকারের পুরো ক্ষমতা ব্যবহার করা উচিত।