এই পৃথিবী যেমন আশ্চর্ময় তেমনই রহস্যময় তার অনেক কিছু। পৃথিবীর সেই আশ্চর্য এবং রহস্যের  এখনো অনেক কিছুই মানুষের আজানা রয়ে গিয়েছে। তবে সেই সব অজানাগুলি জানার জন্য বিজ্ঞানীরা নিয়মিত গবেষণা করে যাচ্ছেন। 

সেই অনুসন্ধান নিয়মিত চলছে বলেই গতকাল উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র জেলায় পাওয়া গেল দুটি সোনার খনির সন্ধান। আনুমানিক ওই দুটি সোনার খনিতে ৩৩৫০ টন সোনা মজুদ আছে। যা দেশের গোল্ড রিজার্ভের মোট পরিমাণের প্রায় ৫ গুণ।  

উত্তরপ্রদেশের ঘটনার মাস খানেক আগে এক সুড়ঙ্গের সন্ধান পায় বিজ্ঞানীরা একটি সুড়ঙ্গের খোঁজ পায়, যার ভিতরে আছে স্বর্ণ ভান্ডার। অবশ্য এটির সন্ধান মিলেছে ইসরায়েলে। জানা গিয়েছে মাটির তলায় লুকিয়ে থাকা এই স্বর্ণ ভান্ডার বয়স কিছু না হলেও প্রায় ৮০০ বছরের কাছাকাছি। 

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের বিজ্ঞানী লিন ও তার দল সম্প্রতি এই সুরঙ্গের খোঁজ পেয়েছেন। ইতিমধ্যে চ্যানেলে এটি খবর সম্প্রচারও করা হয়েছে। এই সুরঙ্গটির খোঁজ পেলেও এটি এখনো মাটির কতটা নিচে ও কতটা জায়গা জুড়ে রয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় নি। দিনরাত গবেষণা চলছে, সঠিক অবস্থান জানা গেলে তবে শুরু করা যাবে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ।

বিঞ্জানীরা জানিয়েছেন, একাদশ শতকে ধর্মযুদ্ধের সময় ইসরায়েলের একরির শহরের নীচে খ্রিস্টান যোদ্ধারা সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন। ধর্মযুদ্ধ ছিল ইসরায়েলকে মুসলিম আধিপত্য থেকে মুক্ত করে খ্রিস্টধর্মের সূচনা করা। ধর্মযুদ্ধের সময় ইসরায়েলের ওই শহরই ছিল যোদ্ধাদের সদর দফতর। সদর দফতর যাতে সহজে খুঁজে না পাওয়া যায়, তার জন্য একরি শহরের মাটির অনেকটা নিচে ওই সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে সদর দফতরে পৌঁছাতেন যোদ্ধারা। এই সুড়ঙ্গ দিয়েই তারা যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং সঙ্গে প্রচুর সোনা নিয়ে যেতেন। 

এই সুড়ঙ্গ থেকে হাতে আসতে পারে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সম্পদ। সেই সম্পদ মানব জীবনে অনেক চাহিদা পূরণ করতে পারে বলে বিঞ্জানীদের ধারণা। এর সন্ধান আগেই জানা গিয়েছিল সোনার ভান্ডার মাটির মধ্যে লুকিয়ে আছে তবে কোথায় আছে সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল না। এবার সেই জায়গাটির পুরোপুরি ভাবে সন্ধান পাওয়া গেল। 

ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিক চ্যানেলের বিজ্ঞানী লিন এবং তার দল ওই সুরঙ্গের খোঁজ পাওয়ার পর বলেছিলেন, সদর দফতর যাতে সহজে খুঁজে না পাওয়া যায়, তার জন্য একরি শহরের মাটির অনেকটা নীচে ওই সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে সদর দফতরে পৌঁছতেন যোদ্ধারা।এই সুড়ঙ্গ দিয়েই তারা যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং সঙ্গে প্রচুর সোনা নিয়ে যেতেন। 

তবে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, এই গোপন সুড়ঙ্গ সোনার মত মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সেনাদের লুকিয়ে থাকা এবং বিপদে পড়লে অন্যত্র পালাবার রাস্তা হিসাবেও ব্যবহার করা হত।এতদিন সেই সুড়ঙ্গ এবং সদর দফতরের কথা জানা থাকলেও, তার প্রকৃত অবস্থান জানা ছিল না। 

ইসরাইলের একরি শহরে মাটির ওপরে থাকা খ্রিস্টান ধর্মযোদ্ধাদের সদর দফতরের ধ্বংসস্তূপ এখনও রয়েছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, আরও ভালো করে খোঁড়াখুড়ি করলে ধর্মযোদ্ধাদের লুকিয়ে রাখা অনেক সোনা উদ্ধার করা যাবে মাটির নীচের ওই সদর দফতর এবং সুড়ঙ্গ থেকে।