বয়স তাঁর ৯২। ৮০ বছর আগে বন্ধ করেছিলেন চুল কাটা। আর এখন তাঁর সেই চুলের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে পাঁচ মিটার! কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভিয়েতনামি নাগুয়েন ভ্যান চিয়ান? এর পিছনে রয়েছে তাঁর ধর্মবিশ্বাস এবং মৃত্যুভয়।

তবে বরাবর এমনটা ছিল না। ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময়, তাঁকে চুল ছাঁটাই করতেই হত। কিন্তু, তৃতীয় শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করে তিনি আর স্কুলের গণ্ডি মাড়াননি। সেই সময়ই চিয়েন 'দুয়া' নামে এক ধর্মীয় বিশ্বাসকে অনুসরণ করা শুরু করেছিলেন। দুয়া ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা শুধুমাত্র নারকেল খেয়ে বেঁচে ছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে এই ধর্মীয় বিশ্বাস এখন ভিয়েতনামে নিষিদ্ধ, এটি একটি মিথ্যা বিশ্বাস হিসাবে চিহ্নিত।

তবে চিয়েনদের মতো ভক্তদের কাছে, এটিই জীবনের একমাত্র ধর্ম। আর সেই ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি য়া কিছু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তা কাটাছাঁটা উচিত নয়। আর সেই থেকেই চুল না কাটার সিদ্ধান্তে এসেছিলেন চিয়েন।

তিনি জানিয়েছেন, চুল কাটলেই তাঁর মৃত্যু আসবে বলে মনে করেন তিনি। চুলের কোনও কিছুই বদলানোর বিষয়ে তাঁর ভয় রয়েছে। কাটা-ছাঁটা তো দূরের কথা পাঁচ মিটার লম্বা চুলে তিনি তেল-শ্যাম্পু-চিরুনি কিছুই লাগান না। এমনকী ঝুঁটি বেঁধে ঝুঁকিও নেন না তিনি। শুকনো এবং পরিষ্কার রাখার জন্য শুধু একটি গেরুয়া রঙের কাপড়ে সেই চুল ঢেকে রাখেন। তিনি নয়টি প্রাকৃতিক শক্তি এবং সাত দেবদেবীর উপাসনাও করেন। তবে, সবচেয়ে বড় ধর্মপালন তাঁর চুল বাড়তে দেওয়া বলেই মনে করেন তিনি।

ভিয়েতনামের রাজধানী হো চি মিন সিটি থেকে পশ্চিমে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে এক গ্রামে থাকেন চিয়েন। তিনি জানিয়েছেন স্কুল ছাড়ার পরই চুল রাখার বিষয়ে দৈব নির্দেশ পেয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছেন আগে তাঁর চুল ছিল কালো এবং ঘন। তিনি নিয়মিত সেই চুল মসৃণ করার জন্য আঁচড়াতেন। কখনও বাঁধতেনও। কিন্তু, স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর রাতারাতি তা শক্ত হয়ে উঠেছিল। এখন তাঁর এই দৈত্যাকৃতির চুলের গোছা সামলাতে সহায়তা করেন চিয়ানের পঞ্চম ছেলে লুম। ৬২ বছরের লুম-ও কিন্তু মনে করেন চুলের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সংযোগ রয়েছে। জানিয়েছেন একবার তাঁর এক পরিচিত ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন চুল বাঁধতে যেতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছিলেন তিনি। সেই থেকেই তাঁর মতে এই বিশ্বাস দৃঢ়তা পেয়েছে।