সারা পৃথিবী জুড়ে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব চরমে। সেখান থেকে বাদ গেল না পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট। বিজ্ঞানীদের একাংশ দাবি করেছেন,  জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে হিমালয়ের উচ্চতা কমতে শুরু করেছে।  বরফের আবরণ নিয়ে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় ৮৮৪৮ মিটার। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, মাউন্ট এভারেস্টের বরফ গলতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে দ্রুত মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কমতে শুরু করেছে। গত পাঁচ বছরে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় ১ মিটার কমে গিয়েছে বলে ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে। 

অন্য দিকে, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়ন্সের ভূতাত্ত্বিকবিদ অনিল  কুলকার্নি জানিয়েছেন, মাউন্ট এভারেস্টের ওপর বরফের আস্তরণ পাতলা হতে শুরু করেছে। যার ফলে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ক্রমেই কমতে শুরু করেছে। যদিও ২০১০ সালে চিনের স্টেট ব্যুরো অফ সার্ভেয়িং অ্যান্ড ম্যাপিং এই বিষয়ে একটা স্পষ্ট ধারণা দেয়। ওই সংস্থার চেন ইয়ং ও তাঁর সহকর্মীরা একটি রিপোর্টে জানান, ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ১.৮ সেন্টিমিটার করে কমছে। যার ফলে ১৩ বছরে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ২৩ সেন্টিমিটার কমে যাবে।সমীক্ষার এই ফলাফল প্রমাণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মাউন্ট এভারেস্টের ওপর। ২০০৫ সালে চিনের স্টেট ব্যুরো অফ সার্ভেয়িং অ্যান্ড ম্যাপিং নামক সংস্থাটি  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা পরিমাপ করে। সেই সময় মাউন্ট এভারেস্টের ওপর বরফের আবরণ ছিল ৩.৫ মিটার আর উচ্চতা ছিল ৮৮৪৮ মিটারের নীচে। 

চিনা সংস্থাটির তরফে জানানো হয়, এভারেস্টের হিমবাহ গলতে শুরু করেছে। যার ফলে এভারেস্টের উচ্চতা কমছে। ১৯৭৫ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এভারেস্টের হিমবাহ যে হারে গলত, গত ১৫ বছরে তার হার দ্বিগুন হয়ে গিয়েছে। ব্যাপকহারে হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণেই বহু বছর আগে যাঁরা এভারেস্ট জয় করতে এসে মারা গিয়েছেন, তাঁদের দেহ গত বছর পাওয়া গিয়েছে। তার মানে কি  মাউন্ট এভারেস্টের ওপর সব হিমবাহ গলে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যে হারে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে এবং মাইন্ট এভারেস্টের বরফ গলতে শুরু করেছে, তাতে ২০৫০ সালের মধ্যে মাউন্ট এভারেস্ট হিমবাহ শূন্য হয়ে গেলে অবাক হতে হবে না। তবে মাউন্ট এভারেস্ট কখনই বরফ শূন্য হবে না।