১১ই এপ্রিলের পর আর প্রকাশ্যে আসেননি উত্তর কোরিয়ার দোর্দণ্ডপ্রতাশ শাসক কিম জং উন। দীর্ঘ দিন রয়েছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। ১৬ই এপ্রিল দাদুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যায়নি। কিম নিয়ে রীতিমত মুখে কুপুল এঁটেছে উত্তর কোরিয়ার স্টেট মিডিয়া।  কিন্তু কেন ?  যার কোনও উত্তর নেই বিশ্ববাসীর কাছে। যদিও একটি সূত্রের খবর কিমের ভ্যাস্কুলার ক্যাডিয়াক সার্জারি হয়েছিল। তারপর থেকেই নাকি গুরুতর অসুস্থ কিম। কিমের হার্টের অপারেশনের পর থেকে তাঁকে নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সংবাদ পত্রের নীরবতা জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। 

৩৭ বছরের কিম জং উনের অবর্তমানে কার হাতে যাবে উত্তর কোরিয়ার শাসনভার। তাই নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছেন। একনায়কতান্ত্রিক কিম কিছু দিন আগেই নাকি বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সূত্রে খবর কিছু দিন আগে কিমের নেতৃত্বেই উত্তর কোরিয়া ক্ষমতীন দল ওয়ার্কাস পার্ট অব কোরিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠকেই কিমের বোন ইয়ো জংকে পলিট ব্যুরোর সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। আর ইয়ো জংকে পলিট ব্যুরোর সদস্য করায় জল্পনা আরও দানা বাঁধছে। 

বিশেষজ্ঞদের ধারণা কিম উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী শাসক হিসেবে তাঁর বোন কিম ইয়ো জংকেই মনোনীত করেছেন। কারণ ইয়ো জং-এ কিমের পরিবারের একমাত্র সদস্য যিনি ক্ষমতা অলিন্দে ঘোরাফেরা করছেন। প্রশাসনের কাজে বরাবরই কিমের পাশে তাঁকে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। তা সে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকই হোক আর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান মনের সঙ্গে বৈঠক হোক। বরাবরই ইয়ো জং ছিলেন সামনের সারিতে। বছর খানেক আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের সঙ্গে বৈঠকেও ইয়ো জং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা  গ্রহণ করেছিলেন। 

কিমের থেকে মাত্র চার বছরের ছোট তাঁর বোন। এখনও তেমন পাকাপোক্তভাবে প্রশাসনের অংশ হতে পারেননি। তবে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রকাশ্যে তেমন দেখা যায়নি তাঁকে। দলীয় কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিতেন তিনি। সূত্রের খবর ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে নিজেকে গড়ে তুলছিলেন তিনি। কিমের তিন ছেলে মেয়ে থাকলেও বর্তমানে প্রশাসন চালানোর জন্য তাঁরা অনেকটাই ছোট। তাই কিমের বোন ইয়ো জং-এর নামই পরবর্তী শাসক হিসেবে ঘোরাফেরা করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ এখনই কিমকে নিয়ে কোনও ধারনা করতে নারাজ। তাঁদের কথায় খামখেয়ালী এই শাসক কখন কী ভাবে প্রত্যাবর্তন করবে তা কল্পনারও অতীত।