নভেল করোনাভাইরাস চিনে প্রথম ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করার প্রায় এক বছর পর, ফের সেই দেশে শুরু হয়েছে কোভিড-এর দ্বিতীয় তরঙ্গের আগমন। সংক্রমণের সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে। যার ফলে বেজিং ও তার আশেপাশের অঞ্চলে নতুন করে কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ জারি করল চিন। এই নতুন সংক্রমণের প্রবাহের ফলে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ নতুন করে লকডাউনের আওতায় বন্দি হয়েছেন।

খাতায় কলমে চিনের নতুন সংক্রমণের হার এখনও দারুণ উদ্বেগের মতো কিছু নয়। সোমবার চিনের মূল ভূখণ্ডে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ১০৩। মঙ্গলবারই এই সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫-তে। আর ২০২০ সালের গোড়ার দিকে প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে তুলনা করলে তো এখনকার পরিসংখ্যানকে নগন্য বলা যেতে পারে। তবু, দারুণ সতর্ক বেজিং। যখনই চিনের কোথাও কোনও নতুন সংক্রমণের ঘটনা সনাক্ত হচ্ছে, তখনই সেখানে কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বেজিং বলেছে, যাতে এক বছর আগে যেভাবে অর্থনীতি একেবারে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল, সেই অবস্থা যাতে আর না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এতটা কড়াকড়ি করা হচ্ছে।

এদিনের নতুন ৫৫টি সংক্রমণের ৪২টিই রিপোর্ট করা হয়েছে রাজধানী বেজিং-কে ঘিরে থাকা চিনের মূল শিল্পাঞ্চল হেবেই প্রদেশ থেকে। এই অবস্থায় ঝুঁকি না নিয়ে মঙ্গলবার হেবেই-এর রাজ-ধানী ল্যাংফ্যাং শহর সিল করে দিয়েছে চিনা স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রায় ৫ কোটি বাসিন্দাকে সাতদিনের জন্য হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এবার শহরে গণহারে কোভিড পরীক্ষা করা হবে। ল্যাংফ্যাং-এর এক্তিয়ারে থাকা গুয়ান এবং সানহে কাউন্টি-তে এর আগেই হোম কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা জারি করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত দুটি কাউন্টিই রাজধানি বেজিং-এর সীমান্তবর্তী। গুয়ান থেকে মাত্র একটি নতুন সংক্রমণের খবর এসেছিল, তবে স্যানহে থেকে এখনও নতুন সংক্রমণের কোনও খবর আসেনি।

চিন দাবি করছে নতুন করে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় তার জন্য়ই এক কড়াকড়ি করা হচ্ছে। কিন্তু, সংক্রমণের যে সংখ্যা তারা দাবি করছে, তার সঙ্গে তাদের প্রতিরোধী পদক্ষেপের ভার মিলছে না। তাই এই সংখ্যা আদৌ সত্যি কিনা, তাই নিয়েও সন্দেহ দেখা দিচ্ছে। এর আগের বছর মহামারির প্রথম ঢেউ চলার সময়ও চিন, তাদের প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা জানায়নি। অনেক কম করে দেখিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল।