কানাডার টরেন্টো থেকে উদ্ধার হল বালুচ অ্যাক্টিভিস্ট করিমা বালুচের নিথর দেহ। করিমা দীর্ঘ দিন ধরেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও পাকিস্তানের প্রশাসনের  বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। পাক সেনা বাহিনী ও প্রশাসন বালুচিস্তানের নাগরিকদের ওপর  অত্যাচার চালাত বলে অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায় বিচারের জন্য সরব হয়েছিলেন তিনি। আর সেই কারণে তাঁর প্রাণ সংশয়ে দেখা দেয়। প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়েন। কিন্তু তারপরেও শেষরক্ষা হল না। দেশ ছাড়ার মাত্র চার বছরের মধ্যেই উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। 


করিমা বালুচ কানাডার শরণার্থী ছিলেন। ২০১৬ সালে বিবিসির বিশ্বের অনুপ্রেরনামূলক প্ররভাবশালী মহিলাদের  তালিকায় ২১ নম্বর স্থানটি দখল করেছিলেন।বালুচিস্তানের নারী সক্রিয়তার পথিকৃৎ হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন।  তাঁর মৃত্যুতে বালুচিস্তান জাতীয় প্রতীক হারিয়েছে বলেও  দাবি করা হয়েছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে। তিনি বালুচিস্তানের ছাত্র সংস্থার ইতিহাসে প্রথম মহিলা চেয়ারপারসেন ছিলেন। পাকিস্তানি বর্বরাত যখন বাড়ছিল সেই সময় তিনি স্থানীয়দের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।  ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তিরি রক্ষা বন্ধন বার্তা রেকর্ড করেছিলেন। 

রবিবার থেকে  নিখোঁজ ছিলেন করিমা বালুচ। পরে উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ। টরেন্টো পুলিশ জানিয়েছেন করিমার দেহ সনান্ত করেছে তাঁর পরিবারে সদস্যরা।  করিমা বালুচের দেহ উদ্ধার হয়েছে টরেন্টোর লেকশোরের কাছে এই দ্বীপ থেকে। করিমার মৃত্যুতে পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছে করিমাকে হত্যা করছে কোনও আইএসআই এজেন্ট। পাকিস্তানের আইএসআই এজেন্টদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান হয়েছে কানাডার প্রেসিডেন্ট জাস্টিন টুডোর কাছে। ২০১৬ সালে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে করিমা বালুচ কানাডায় চলে এসেছিলেন। সেখান থেকেই বালুচিস্তানের সাধারণ নাগরিকদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর বালুচিস্তানের ৪০ দিন শোক পালন করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৪০ দিনের জন্য সমস্তরকম কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানান হয়েছে।