হাল আমলের সব থেকে ন্যাক্কারজনক আইন এনে বিশ্বের দরবারে মুখ পোড়ালো ব্রুনেই। সুলতান হাসানল বলকিয়া দ্বারা শাসিত একরত্তি দেশ ব্রুনেই দ্বীপপুঞ্জে সাম্পতিক ঘোষণায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোনও সমকামী ধরা পড়লে তাঁকে জনসমক্ষে পিটিয়ে বা পাথর ছুঁড়ে মারা হবে।

ব্রুনেইএ শরিয়তি আইন স্বীকৃত। মধ্য প্রাচ্য শরিয়তি পেনাল কোডকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ব্রুনেই। ব্‌রুনেই-এর দেখাদেখি এই আইন বলবৎ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ সৌদি আরবও।

এই আইন অনুসারে চৌর্যবৃত্তির শাস্তি অঙ্গহানি। ডাকাতি বা ধর্ষণে মৃত্যুদন্ড। তবে নৃশংসতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে সমকামিতা সংক্রান্ত আইনটি। সারা পৃথিবী যখন সমকামিতার পক্ষে কথা বলছেষ সমকামীদের অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াই যখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত, ব্রুনেইএর নির্লজ্জতা তখন সারা বিশ্বকেই অবাক করছে।

এই আইনকে ধিক্কার জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। তাঁদের মতে এটি "নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার সামিল।" হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনি থেকে গায়ক এলটন জন, সকলে ব্রুনেইকে বয়কটের ডাক দিয়েছে। আইনটির কড়া সমলোচনা করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও।

প্রসঙ্গত এই আইনে সমকামী পুরুষকে পাথর ছুঁড়ে মারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আর মেয়েদের জন্যে বরাদ্দ চল্লিশ ঘা বেত অথবা দশ বছরের সশ্রম কারাদন্ড।

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমকামী ব্রুনেই নাগরিক বলছেন, "এই দেশ আসলে আমাদের শান্তিতে বাঁচার নূন্যতম অধিকারটুকুও কেড়ে নিতে চায়।"

বিশেষজ্ঞদের মতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির মধ্যে গোঁড়া ইসলামি ভাবমূর্তি ফিরিয়ে এনে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন  ব্রুনেই এর সুলতান।


প্রসঙ্গত, ভারতবর্ষেও সমকামিতা অপরাধ বলে গণ্য হত ব্রিটিশ আইনের সুবাদে। সম্প্রতি ৩৭৭ ধারা বাতিল করে সমকামীদের হয়রানি রুখতে সহায় হয়েছে ভারতীয় ন্যায়ালয়।