'ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে চিন', ঠিক এই ভাষাতেই সারা বিশ্বের মুসলিমদের ড্রাগনের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করলেন উইঘুর মুসলিম অধিকার রক্ষা কর্মী রুশান আব্বাস। ভারতে আগ্রাসনের পর থেকেই যেন চিনের খারাপ সময় শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা - বহির্বিশ্ব থেকে তাদের সমালোচনা, বিরোধিতা চলছিলই। এবার আওয়াজ উঠতে শুরু করল দেশের ভিতর থেকেই।   

শুক্রবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, চিনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোনও মসলিম রাষ্ট্র না দাঁড়ালোয় তারা মর্মাহত। তবে তারা জানে এর একমাত্র কারণ বিশ্বের অন্য়ান্য দেশের মতো মুসলিম বিশ্বের দেশগুলিও চিনের ক্রমাগত মিথ্যা প্রচারে বিভ্রান্ত। তিনি জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে ঠিক কী চলছে তা জানতে পারলে মুসলিম দেশগুলি তাঁদের পাশে দাঁড়াবে বলে আশা রাখেন উইঘুররা। আর তার জন্যই এই ভিডিও বানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, সারা বিশ্বের মুসলিম ভাইবোনরা উইঘুর মুসলমানদের ভুলে গিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান তাদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে। উইঘুরদের উপর এই অত্যাচারের কাহিনি জেনেও তারা চিনের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু, এরফলে পাকিস্তান নিজেই নিজের চিনা শিকল তৈরি করে ফেলেছে বলেই দাবি করেছেন রুশান আব্বাস।

এরপর তিনি সরাসরি মুসলিম দেশগুলির আন্তর্জাতিক জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ বা ওআইসি-র উদ্দেশ্যে সতর্ক করে বলেছেন, চিনের মৃত্য়ুফাঁদ কুটনীতিই সতর্ক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর পাশাপাশি রয়েছে চিনের নিজের বন্ধুদেশদেরই অর্থনীতির জোরে কিনে নেওয়া এবং দমননীতি চালানোর ঘটনা। তাই তিনি বলেছেন, ওআইসি-কে বুঝতে হবে চিন ইসলামের বিরুদ্ধে তথা যে কোন ধর্মের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।  

কীভাবে এই যুদ্ধ সংঘটিত করছে চিন? রুশান দাবি চিনা কমিউনিস্ট শাসন পবিত্র কোরান নতুন করে লেখার চেষ্টা করেছে। উইঘুরদের মসজিদে যেতে দেওয়া হয় না। নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া হয়। এমনকী সালাম আলাইকুম বলে সম্বোধন করাও বেআইনি ঘোষণা করেছে জিনপিং সরকার। রমজানে উইঘুরদের রোজা রাখার অধিকার নেই। তাদের মদ্যপান ও শুকরের মাংস খেতে বাধ্য করা হয়। হালাল অর্গান ট্রান্সপ্লান্টের বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নবি হজরত মহম্মদ হাদিসে দমনকারীদের অত্যাচার সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এর থেকে আল্লার বড় শত্রু নেই। উইঘুর মুসলিমদের জীবনের থেকে চিনা শাসকদের অর্থের লোভ অনেক বেশি। অবিশ্বাস্য অত্যাচারের শিকার হন উইঘুর-রা। তাই তিনি মুসলিম বিশ্বকে উইঘুরদের উপর এই চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে  সোচ্চার হতে আহ্বান জানিয়েছেন।