১৫ জুন রাতে গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে ভারত-চিনের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষে চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মির অন্তত 'শতাধিক' সেনাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে! এমনই বিশাল দাবি করলেন প্রাক্তন চিনা সামরিক কর্মকর্তা জিয়ানলি ইয়াং। প্রাক্তন চিনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) এক নেতার পুত্র জিয়ানলি এখন চিনে মানবাধিকার কর্মী হিসাবে কাজ করেন। গালওয়ান সংঘর্ষে চিন তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গোপন করায় তিনি শি জিনপিং সরকারের তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, আসল সংখ্যাটা জানালে নিজের দলের মধ্যেই 'বিদ্রোহ'-এর মুখে পড়তেন চিনের প্রেসিডেন্ট।

গত ১৫ জুন রাতে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনা ও চিনা পিএলএর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে চিন একটানা ভারতের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে। তবে ঘটনা পরম্পরা কিংবা হতাহতের কোনও সংখ্যা প্রকাশ করেনি বেজিং। চিনা কমিউনিস্ট সরকারের প্রবল কর্তৃত্ব থাকা সত্ত্বেও এই নিয়ে চিনে নাগরিকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে জিনপিং প্রশাসনকে, এমনটাই জানা গিয়েছে।

ভারত অবশ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, ২০ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান ওই ঘটনায় শহিদ হয়েছেন। আরও বেশ কয়েকজন জওয়ান গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। চিন তাদের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা না জানালেও বলেছে, সেই সংখ্যা অবশ্যই ২০-র অনেক কম। চিন সরকারের মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস দাবি করেছে, হতাহতদের বিষয় জানালে চিনা 'জনগণের মনমেজাজ খারাপ হয়ে যেতে পারে', তাই সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিশদ কিছু না জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে গত মাসে চিনা বার্তা সংস্থাগুলির মাধ্যমে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছিল চিনা পক্ষে নিহত ও আহত মিলিয়ে সংখ্যাটা ৪৩। আর মার্কিন গোয়েন্দারা দাবি করেছিলেন ওই সংঘর্ষে পিএলএ-র ৩৫ জন সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আর প্রসার ভারতী 'সূত্রের খবর' বলে জানিয়েছিল ওই ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন মারা গিয়েছেন।