পৃথিবীর সম্পদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। তাই এখন অনেক দেশই মহাকাশের অন্যান্য গ্রহ বা গ্রহাণু থেকে সম্পদ সংগ্রহের কতা ভাবছে। আর এই বিষয়ে সবাই-কে পিছনে ফেলতে চলেছে চিন। তাদের সম্প্রসারণবাদী নীতি সম্ভবত এবার মহাকাশেও প্রয়োগ হতে চলেছে। জানা গিয়েছে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই বেজিং বিশ্বের প্রথম মাইনিং রোবট অর্থাৎ খননকারী রোবট মহাকাশে পাঠাতে চলেছে।

এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি অবশ্য চিন সরকারের নয়, 'অরিজিন স্পেস' নামে বেজিং-এর বেসরকারী সংস্থার। নিও -১ নামে রোবটটিকে 'অ্যাস্ট্রয়েড মাইনিং রোবট' বা 'গ্রহাণু খননকারী রোবট' বলা হচ্ছে। তবে জানা গিয়েছে যে রোবটটিকে মহাকাশে পাঠানো হবে, সেটি সত্য়ি সত্যি কোনও খনন কাজ করবে না। পরবর্তীকালে খননকাজ চালানোর লক্ষ্যে বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তির পরীক্ষার উদ্দেশ্যে এই রোবটটিকে মহাকাশ অভিযানে পাঠানো হচ্ছে।

নিও -১ রোবটকে একটি চিনা লং মার্চ রকেটের লমারফত মহাকাশে পাঠানো হবে। মহাকাশযানটির ওজন মাত্র ৩০ কেজি। এটি ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর চারদিকে একটি কক্ষপথে প্রবেশ করবে। মহাকাশযানটির অরবাইটাল প্রযুক্তি, ছোট আকারের মহাজাগতিক বস্তু ধরার ক্ষমতা, মহাকাশযান সনাক্তকরণ এবং নিয়ন্ত্রণের মতো বিবিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে। নিও-১ অভিযান-এর মতো প্রচেষ্টা এর আগে বিশ্বের কোনও দেশ কখনও চেষ্টা করেনি। অভিযান সফল হলে লক্ষ কোটি ডলারের শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যাবে।

মহাকাশ থেকে সম্পদ খনন করে আনা এখনও পর্যন্ত কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি মনে হতে পারে। কিন্তু, গত কয়েক বছরে মহাকাশে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা অধিকার কায়েম করা শুরু করেছে। প্রখ্যাত মার্কিন উদ্যোগপতি এলন মাস্ক প্রায়ই মঙ্গল গ্রহে 'উপনিবেশ স্থাপন'-এর কথা তোলেন। শুক্রগ্রহকে তাদের গবেষণার অঞ্চল হিসাবে দাবি করছে রাশিয়া। নাসাও ভবিষ্যতে বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে 'মুন রকস' অর্থাৎ চাঁদের পাথর কেনার কতা জানিয়েছে। বিলিয়নেয়াররা কিন্তু এখন থেকেই মহাকাশে নয়া ব্যবসা ফাঁদার সুযোগ দেখতে পাচ্ছেন।