দীর্ঘ দিন ধরেই সন্দেহ করা হচ্ছিল। একাধিকবার সরবও হয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু হাতে কোনও তথ্য না থাকায় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিল চিন। তবে এবার আর শি জিংপিং-এর প্রশাসন সেই রাস্তায় হাঁটতে পারবে না। কারণ সদ্যো ফাঁস হওয়া একাধিক দলিল নিশ্চিত করেছে যে চিনের কমিউনিস্টি পার্টি  কর্মীদের- রাষ্ট্রদূতের অফিস, বহুজাতিক সংস্থা এমনকি করোনা প্রস্তুতকারক সংস্থা ফাইজার ইনকে পাঠিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে একটি প্রতিদেবন থেকেই এই তথ্য পাওয়া গেছে। 

অস্ট্রেলিয়া গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, একাধিক নথি রয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, কমিউনিস্টি পার্টি অব চায়নার কর্মীরা চিনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাংহাই থেকে কমপক্ষে ১০টি কনস্যুলেটে অনুপ্রবেশ করেছে। এক দশক ধরে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের টার্গেটে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, সুইটজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ইতালি ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই অনুপ্রবেশের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছিল সাংহাই ফরেন এজেন্সি সার্ভিস। এই দলেরই কোনও না কোনও ব্যক্তি পৌঁছে গিয়েছিল ফাইজারে। 

এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার দাবি করেছিল তাদের দেশের গবেষণাগারগুলিতে রয়েছে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির অনুপ্রবেশকারীরা। মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল বাণিজ্য গোপনীয়তা ও কর্পোরেট গুপ্তচর বৃত্তি করে চিন লাভবান হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ দলীয় কর্মীর বিশেষ তথ্য রয়েছে তাদের হাতে। তবে করোনা মহামারির কারণে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চিনের সুসম্পর্ক খুব একটা নেই। কিন্তু বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

একটি সূত্র বলছে ২০১৬ সালে সাংহাইএর সার্ভার থেকে একটি ডেটাবেস লিক হয়েছিল। সেই ডেটাবেস সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক গোষ্ঠীর কাছে পাঠান হয়েছে। যা চলতি বছর জুন মাসে  গঠন করা হয়েছিল। সেই ডেটাবেসে ১৫০ জন বিধয়কসহ দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি সম্পর্কে একাধিক তথ্য রয়েছে। মনে করা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যমটি সেই ডেটাবেসটি ব্যবহার করেছে।