২ চিকিৎসকের গায়ের রঙ বদলে দিল করোনা ভাইরাস অস্বাভাবিক কালো হয়ে গিয়েছে গায়ের রঙ মারণ ভাইরাসের কারণে গুরুতর জখম হয়েছে  যকৃত দেখা দিয়েছে হরমোন সংক্রান্ত সমস্যাও 

করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট মাহামারী থেকে নিজেদেরকে অনেকটাই বার করে নিয়ে আসতে পেরেছে চিন। শুরু হয়ে গিয়েছে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা। এমনকি করোনার ভরকেন্দ্র উহানকেও লকডাউন মুক্ত করা হয়েছে। সেখানে ফের রাস্তায় বের হতে শুরু করেছেন মানুষজন। খুলেছে স্কুল-কলেজ, অফিস-কাছারি। এর মধ্যেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর একটি তথ্য। উহানে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজেরাই সংক্রমণের শিকার হয়ে ছিলেন দুই চিকিৎসক ই ফ্যান এবং হু ইফেং। করোনার থাবা থেকে প্রাণে বাঁচলেও দুজনের চেহারা একেবারে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। করোনার প্রভাবে একেবারে ফরসা থেকে কালো হয়ে গিয়েছেন দু'জনে। এই দুই ঘটনাকে নিয়ে ইতিমধ্যে গোটা দুনিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কারণ, এই প্রথম করোনা আক্রান্ত কোনও রোগীর ক্ষেত্রে গায়ের রঙ পরিবর্তন হতে দেখা গেল। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ফের কোরনা যোদ্ধাদের উপর হামলা, পুলিশ বাহিনীর দিকে ইঁট ছুঁড়ল উন্মত্ত জনতা, দেখুন ভিডিও

ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল ব্রিটেন, শুরু হচ্ছে মানবদেহে প্রয়োগ

আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৮ লক্ষ, গ্রিনকার্ড দেওয়া বন্ধ করলেন ট্রাম্প

জানা যাচ্ছে, বিশ্বে করোনার কথা প্রথম প্রকাশ্যে আনা উহানের চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াংয়ের সহকর্মী ছিলেন ই ফ্যান এবং হু ইফেং। শোনা যায়, করোনার কথা প্রকাশ্যে আনার জন্য লিকে শাস্তি দিয়েছিল চিনা সরকার। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণেই মৃত্যু হয় লি ওয়েনলিয়াংয়ের। উহানের সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসার সময় করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসে সংক্রমণের শইকার হন ফ্যান এবং ইফেংও। বছর বিয়াল্লিশের ই ফ্যানের অবস্থা এতটাই গুরুতর হয়ে যায়, যে তাঁকে ৩৯ দিন লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়েছিল। সেরে ওঠার পর নিজেদেরই কার্যত চিনতে পারেননি দুই চিকিৎসক। করোনা তাঁদের যকৃৎ গুরুতর জখম করেছে, হরমোন সংক্রান্ত সমস্যার জেরে অস্বাভাবিক কালো হয়ে গিয়েছে চামড়া।

Scroll to load tweet…

ই ফ্যান জানিয়েছেন, তিনি বিছানায় ঠিকমত নড়াচড়া করতে পারছেন কিন্তু একা একা হাঁটতে পারছেন না। করোনার সঙ্গে এই দীর্ঘ লড়াই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে তাঁকে, নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কাউন্সেলিং-এর সাহায্য নিচ্ছেন তিনি।

লি ওয়েনলিয়াংয়ের আরেক সহকর্মী হু ইফেংয়ের অবস্থা আরও খারাপ। ৯৯ দিন শয্যাশায়ী থাকতে হয় তাঁকে। এখনও আইসিইউ-তেই আছেন তিনি।

গত ডিসেম্বরে উহানে প্রথম করোনার প্রকোপ দেখা দেয়। আর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এই দুই চিকিৎসক মারণ ভাইরাসের সংক্রমণে পরেন। জানা গিয়েছে, দুই চিকিৎসকেরই লিভারে এই ভাইরাস মারাত্মক ক্ষতি করেছে। চিনা সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, দুই চিকিৎসকের পাকস্থলী বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে হরমোনেপ ভারসাম্য হারিয়ে গিয়েছিল তাঁদের শরীরে। সেই কারণেই অদ্ভূতভাবে তাঁরা সাদা থেকে কালো হয়ে যান। যদিও এখন মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে তাঁরা সুস্থ হওয়ার পথে। তবে গায়ের রঙ কাঁরা ফিরে পাবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।