বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে যাওয়ার পর থেকে গত কয়েক মাসে চিনাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। ওয়েট মার্কেটে যে ধরণের বন্যপ্রাণীর মাংস ও বিচিত্র মাছ বিক্রি হয় তা থেকে কীভাবে বিপদ ঘনাতে পারে, কিংবা কাঁচা মাছ-মাংস খাওয়ার অভ্যাস থেকে কীভাবে ভাইরাস বা ব্যাকটিরিয়া মানবদেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে - এইসব বিষয় নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও চিনাদের স্বভাবে একটুও পরিবর্তন আসেনি।

বিশ্বজুড়ে বহু সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ, গবেষক চিনের ওয়েট মার্কেটগুলির সঙ্গে এই নতুন করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ঘনিষ্ঠ সংযোগ আছে বলে মনে করেন। এবার চিনা থেকে আরও একটি, অদ্ভূত খাদ্যাভাসের জেরে বিপদ ঘনাবার খবর  এল। জানা গিয়েছে অর্ধসিদ্ধ মাছের একটি লোভনীয় পদ খাওয়ার জেরে লিভার বা যকৃৎ-এর অর্ধেক খোয়া গিয়েছে এক চিনা ব্যক্তির। তার মেডিকেল রিপোর্ট বলছে, এক প্রকার মাংসভুক পরজীবী তার লিভার কুড়ে কুড়ে খেয়ে নিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির বয়স ৫৫ বছর। খিদে না থাকা, ডায়েরিয়া, মানসিক অবসন্নতা এবং পেটে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে হাংঝাউ ফার্স্ট পিপলস হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি। গত চার মাস ধরে ওই শারীরিক সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। চিকিত্সকরা তাঁর দেহের স্ক্যান করে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। স্ক্যান রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল তাঁর লিভারের বাঁ দিকের প্রকোষ্ঠটিতে ১৯ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এবং ১৮ সেমি প্রশস্ত একটি পুঁজ ভর্তি থলি তৈরি হয়েছে। সেই থলির গায়ে আবার টিউমার তৈরি হতে শুরু করেছে।

বেশ কয়েক দফা পরীক্ষার পর, ডাক্তাররা বুঝেছিলেন তিনি 'ক্লোনোরচিয়াসিস' রোগে ভুগছেন। এই রোগ একটি পরজীবী কৃমি সংক্রমণের ফলে হয়। কোথা থেকে এল ওই পরজীবি? ওই রোগী জানিয়েছেন, তিনি একটি অর্ধেক রান্না করা মাছের পদ খেয়েছিলেন। ডাক্তারদের বিশ্বাস ওই মাছের দেহেই ওই পরজীবির বাস ছিল। যা পরে ওই লোকটির যকৃতে ডিম দিয়েছিল। সেই ডিম থেকেই আরও পরজীবির সৃষ্টি হয়, যারা তার যকৃতের দেওয়াল কুড়ে কুড়ে খেতে শুরু করেছিল।

তাঁর লিভার বাঁচাতে চিকিত্সকরা সঙ্গে সঙ্গে ওই থলি থেকে পুঁজ বের তার আকার অর্ধেক করে দিয়েছিলেন। তবে তার তিন সপ্তাহ পরও যকৃতে টিউমারগুলি থেকে গিয়েছিল। অন্য কোনও বিকল্প না থাকায় শল্যচিকিৎসকরা লিভারের সংক্রামিত অংশটি কেটে বাদ দেন। কাটা ওই অংশের মৃত টিস্যুগুলির মধ্যে 'অগণিত' বাল্ব আকৃতির পরজীবি ডিম পাওয়া গিয়েছে।

চিনে বহু জায়গায় এই ধরণের কাঁচা মাছ-মাংস খাওয়া হয়ে থাকে। কাজেই সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়াটা অস্বাভাবিক নয়।