শুক্রবার গোটা বিশ্বে যে খবরটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে, সেটি হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের করোনা পজিটিভ সনাক্ত হওয়া। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, ব্রিটিশ প্রাইম মিনিস্টার বরিস জনসন থেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পর্যন্ত পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরোগ্য কামনা করেছিলেন। শুধু নীরব ছিলেন চিনা রাষ্ট্রপ্রধান। চিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিদ্রুপ করেছিল ট্রাম্প-কে। অবশেষে শনিবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং।

এদিন, শি জিনপিং-ও কোভিড-১৯ আক্রান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। এমনটাই জানানো হয়েছে চিনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরষ্ট্র ও চিন - বিশ্বের এই দুই সর্ববৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। করোনভাইরাস মহামারি এবং তাই নিয়ে দোষারোপের খেলায় সেই সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। করোনাকে ট্রাম্প এর আগে কখনও 'চিনা ভাইরাস', কখনও 'কুং ফ্লু' বলে বিদ্রুপ করেছিলেন। চিনই ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভাইরাস বিশ্বের বুকে ছড়িয়ে দিয়েচে, এমন গুরুতর অভিযোগও করেছিলেন।

শুক্রবার তাঁর আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চিনা সরকারি সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস-এর সম্পাদক হু জিজিন, ট্রাম্পের নাম না করেই টুইট করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কোভিড-১৯ নিয়ে জুয়া খেলার মূল্য চোকাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মহামারিটির 'তীব্রতা'কে প্রকাশ করে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আক্রান্ত হলে, সকলেই আক্রান্ত হতে পারেন। সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় ট্রাম্প এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি খারাপ হবে, এমনকী ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের উপরও তাঁর কোভিড আক্রান্ত হওয়া নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বলে মত প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বয়স এখন ৭৪। সেইসঙ্গে তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ও অতিরিক্ত ওজনের সমস্য়া রয়েছে। তাই করোনাভাইরাসে তাঁর প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। তবে এখনও তাঁর কিংবা মেলানিয়া ট্রাম্পের শরীরে কোনও কোভিড উপসর্গ নেই বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।