চিনের গুয়াংঝৌ প্রদেশের একটি অ্যাপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন খালি পড়েছিল। দীর্ঘদিন সেই অ্যাপার্টমেন্টে কোনও লোকবসতি নেই। অথচ সেই অ্যাপার্টমেন্টেরই শৌচাগারের বাথটাব, কল এবং শাওয়ারের হ্যান্ডেলে সারস-কোভ-২ অর্থাৎ নতুন করোনাভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করা গিয়েছে। ঘটনাটি গত ফেব্রুয়ারি মাসের। সম্প্রতি চিনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর গবেষকরা এই সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। আর যা নতুন পন্থায় করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।  

কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকা অ্যাপার্টমেন্টের বাথরুমে এল করোনার জীবানু? এই নিয়ে বেশ ধাঁধায় পড়ে গিয়েছিলেন চিনা বিজ্ঞানীরা। ওই অ্যাপার্টমেন্টের আর কোথাও করোনার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়নি। তাহলে কি জলের পাইপের মাধ্যমেও বাহিত হচ্ছে করোনার জীবানু? কারণ ওই অ্যাপার্টমেন্টের নিচের অ্যাপার্টমেন্টেই যে পরিবার বাস করে তাদের পাঁচ সদস্য ওই বাথরুমে করোনা আবিষ্কারের এক সপ্তাহ আগেই করোনা পজিটিভ হিবাসে সনাক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু, করোনাভাইরাস তো জলবাহিত নয়, বরং বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র জলকণার মাধ্যমে ছড়ায়।

এরপর গবেষকরা একটি 'অন-সাইট ট্রেসার সিমুলেশন পরীক্ষার' মাধ্যমে আবিষ্কার করেন মূল সমস্যা তৈরি হচ্ছে কমোডে ফ্লাশ করার সময়। করোনা আক্রান্ত রোগীর মল ও মূত্রে ভাইরাসটি যথেষ্ট পরিমাণে উপস্থিত থাকে, তা আগেই প্রমাণিত হয়েছে। গবেষকরা পরীক্ষার সময় দেখেছেন, ফ্লাশ করার সময় 'ভাইরাস সম্বলিত অ্যারোসল বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণার একটি বিশাল ঊর্ধ্বমুখী পরিবহন ঘটে থাকে। বেশিরভাগ অ্যাপার্টমেন্টের বিল্ডিং-এই নিকাশীর পাইপ একসঙ্গে যুক্ত থাকে। সেই নিকাশী পাইপের মাধ্যমেই এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গবেষকরা আরও জানিয়েছেন অনেকসময়ই নিকাশীনালায় পর্যাপ্ত জল না থাকলে পাইপের মাধ্যমে মল থেকে তৈরি উষ্ণ, আর্দ্র গ্যাস নিকাশী পাইপ বেয়ে অ্যাপার্টমেন্টের বাথরুমে উঠে আসে। এই গ্যাসগুলি প্রায়শই গন্ধ দিয়ে সনাক্ত করা যায়। এদিকে করোনা রোগীদের মধ্যে যাঁদের মল ও মূত্রে 'অত্যন্ত উচ্চ ঘনত্ব'এ ভাইরাসটি উপস্থিত থাকে, তাদের ক্ষেত্রে মল থেকে তৈরি হওয়া ওই উষ্ণ, আর্দ্র গ্যাসের মাধ্যমেও করোনা বাহিত হতে পারে।