বদলে যাচ্ছে করোনাভাইরাস মহামারি। বর্তমানে ২০, ৩০ এবং ৪০ ঘরে বয়সীদের দেহেই সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে কোভিড। সমস্যা হল এঁদের বেশিরভাগই অ্যাসিম্পটমেটিক। অর্থাৎ, এই যুব সম্প্রদায়ের অনেকেই জানেনই না যে তাঁরা করোনা সংক্রামিত। তাই অসুস্থ ও বয়স্ক অর্থাৎ যাঁরা করোনা আক্রান্ত হলে প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি, তাঁদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু।

হু-এর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক পরিচালক তাকেশি কাসাই এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে জানান, চলতি মাসে হঠাৎই বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রামিতদের মধ্যে তরুণদের অনুপাত উল্লেখযোগ্য রকম বেড়েছে। কাজেই ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের প্রাণের ঝুঁকি বাড়ছে।

শুধু তাই নয়, ভিয়েতনাম, নিউজিল্যান্ড-সহ বেশ কয়েকটি দেশ সম্পূর্ণ করোনামুক্ত কিংবা মহামারির প্রকোপ অনেকটা কমে আসার পরও, সম্প্রতি সেখানে নতুন করে করোনা সংকট বাড়তে শুরু করেছে। একে কাসাই মহামারির পুনরুত্থান বলতে নারাজ। তাঁর মতে এটা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মহামারিটির একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশের সংকেত।

তবে, ভাইরাসটির জিনগত মিউটেশন বা অভিযোজনের ফলে যে নতুন রূপভেদ তৈরি হচ্ছে তাই নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয় হু। এখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটিকে 'তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল' বলেই মনে করছে। কাজেই বিশ্বব্যপী গবেষক ও ওষুধ প্রস্তুতকারীরা যে ভ্যাকসিন বিকাশ ও উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাতে ভাইরাসের অভিযোদন কোনও সমস্যা তৈরি করবে না। এমনটাই বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার মত। রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়েও সেই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হু সমন্বয় সাধন করছে বলে জানানো হয়েছে। এই নতুন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার বিষয়ে কী প্রমাণ পেয়েছে তারা, সেই বিষয়ে জানতে চেয়েছে হু।