জ্বালানি তেলের ব্যবসা আর যথেষ্ট মনে হচ্ছে না। তাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের লক্ষ্য এখন মহাকাশ। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তারা একটি মহাকাশ তৈরি করেছে। মানবহীন এই মহাকাশযানটির নাম দেওয়া হয়েছে 'আমাল'। আরবিতে ভাষায় যার অর্থ 'আশা'। 

১৪ জুলাই জাপানের প্রত্যন্ত দ্বীপ তানেগাশিমা থেকে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রকল্পের সাথে যুক্ত প্রকৌশলীরা এখন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এর আগে অবশ্য একবার শুভযাত্রার দিন পিছিয়েছে।

আগামী সপ্তাহে 'আমাল'-এ জ্বালানি তেল ভর্তি করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে  ৪৯৩ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বের মঙ্গলগ্রহে পৌঁছাতে মহাকাশযানটির সময় লাগবে আনুমানিক সাত মাস। মঙ্গলগ্রহের এক বছর ৬৮৭ দিনে। এই পুরো সময় ধরে মহাকাশযানটি মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবে। কক্ষপথ একবার ঘুরতে এর সময় লাগবে ৫৫ ঘণ্টা।

জাপানিজ 'রকেট' দ্বারা চালিত মহাকাশযানটিতে তিন ধরনের 'সেন্সর' রয়েছে। যার কাজ মঙ্গলগ্রহের জটিল বায়ুমণ্ডল পরিমাপ করা। মহাকাশযানটিতে খুব শক্তিশালী রেজুলুশনের একটি মাল্টিব্যান্ড ক্যামেরা রাখা আছে যা খুব সূক্ষ্ম বস্তুর ছবি তুলতে পারবে।

এছাড়া মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের ওপর ও নীচের অংশের পরিমাপ করার জন্য থাকবে একটি ইনফ্রারেড স্পেকটোমিটার। যা তৈরি করে দিয়েছে আমেরিকার অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি। আরও একটি সেন্সর মঙ্গলের অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের মাত্রা পরিমাপ করবে।আমালের মঙ্গল অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য জল তৈরিতে প্রয়োজনীয় দুটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান কেন মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে থাকতে পারছে না, তা বোঝার চেষ্টা করা।
যুক্তরাজ্যের সায়েন্স মিউজিয়াম গ্রুপের পরিচালক স্যার ইয়ান ব্ল্যাচফোর্ড বলেছেন, ‘এর আগে যত মহাকাশযান মঙ্গলগ্রহে পাঠানো হয়েছে সেগুলো ভূতত্ত্বের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু এবার মঙ্গলগ্রহের জলবায়ু সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাবে।’ মহাকাশবিজ্ঞানে আরব আমিরাতের প্রচেষ্টা এইপ্রথম নয়। এর আগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার জন্য একটি রকেট পাঠিয়েছিল তারা। আগের বছর রাশিয়ান একটি মহাকাশযানে করে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে গিয়েছিলেন আমিরাতের প্রথম নাগরিক।

তবে প্রথম আরবীয় হিসেবে মহাকাশে গেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ সুলতান বিন সালমান আল-সদ। ১৯৮৫ সালে আমেরিকার একটি মহাকাশযানে করে গিয়েছিলেন তিনি। আরব আমিরাতের মঙ্গলগ্রহে মহাকাশযান পাঠানোর এই প্রচেষ্টা  মহাকাশ যাত্রার ক্ষেত্রে একটি বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশগুলিই মহাকাশ চর্চাতে ছিল। পাশাপাশি মঙ্গলগ্রহ মিশন ব্যর্থ হওয়ারও একটি লম্বা ইতিহাস রয়েছে।