বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রেম বড় ক্ষণস্থায়ী। কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা রীতিমত এখন চ্যালেঞ্জ। তবে আধুনিক যুব সমাজের কাছে কিন্তু আদর্শ হয়ে উঠতে পারেন ইকুয়েডরের এক বৃদ্ধ দম্পতি। কী ভাবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয় তার যেন জীবন্ত  এনসাইক্লোপিডিয়া দু'জনে। 

আপনি কি বলতে পারবেন, এই মুহূর্তে বিশ্বে প্রবীণতম দম্পতি কারা? কতই বা তাদের বয়স এবং কত বছর ধরেই বা সংসার করছেন তারা? অবাক করা হলেও সত্যি, ৭৯  বছরের বেশি সময় ধরে এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন ইকুয়েডরের ওই দম্পতি। ছোটখাটো কারণে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার এ যুগে, তাদের কাছে সুসম্পর্ক ধরে রাখার মূলমন্ত্রই হচ্ছে, ধৈর্য ও সহনশীলতা।

সারা জীবনে একে অপরের পাশে থাকার শপথ নিয়েই এগিয়ে গিয়েছিলেন ১১০ বছরের জুলিও মোরা এবং ১০৪ বছরের  ওয়ালড্রামিনা কুইন্টারেস। ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোপনে বিয়ে করেছিলেন দু'জনে। সেই সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর ক্রমেই চাপ তৈরি করছিল। আর তার মাঝেই এক অপরের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন জুলিও ওয়ালড্রামিনা। যদিও সেই সময় দুই পারিবারের কেউই এই বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। 

আরও পড়ুন: আশা জাগাচ্ছে ৪টি ভ্যাকসিন, ২০২১ সালের প্রথমেই ভারতের বাজারে আসছে প্রতিষেধক

আট যুগ পেরিয়ে একে অপরের সঙ্গে সেই পথচলা আজও চলছে তির নবীন এই দম্পতির। শতবর্ষ পেরিয়েও রয়েছে অটুট ভালবাসা। প্রাক্তন শিক্ষক জুলিও ও ওয়ালড্রামিনার সংসার এখন ভরপুর ১১টি ছেলেমেয়ে  ও ২১ জন নাতি-নাতনিকে নিয়ে। 

সম্প্রতি ৭৯ বছর পূর্ণ করেছে তাঁদের বিবাহিত জীবন। বর্তমানে সবচেয়ে প্রবীণ জীবিত দম্পতি হিসাবে গিনেস ওয়ার্ল্ড  রেকর্ডে নামও তুলে নিয়েছেন দু'জনে। পুরানো দিনের ছবি দেখে সময় কাটে শতবর্ষী এই দম্পতির। সাদাকালো যুগে ফ্রেমে বন্দি হওয়া কিছু স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে কেটে যায় বেলা। 

আরও পড়ুন: করোনাকে কাবু করতে দরকার ভ্যাকসিন না হার্ড ইমিউনিটি, জবাব দিল 'হু'

১৯৪১ সালে লুকিয়ে বিয়ে করেছিলেন দু'জনে। তবে পরিচয় হয়েছিল সেই ১৯৩৪ সালে। এখনও সেই কথা বললে লজ্জায় লাল ওয়ে ওঠা বৃদ্ধা  ওয়ালড্রামিনার চোখ-মুখ। বছরের পর বছর এমন মিষ্টি সম্পর্ক ধরে রাখার মূলমন্ত্র শোনালেন তাঁরা। দুজনেই ধৈর্য্যকে এরজন্য ফুলমার্কস দিয়েছেন। তাঁদের কথায় "ভালবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা এবং পারিবারিক মূল্যবোধই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার আসল চাবিকাঠি।" বিশ্লেষকদের মতে, সমাজে সুসম্পর্ক ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রবীণ এই নাগরিকরাই  হতে পারেন উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

 

 

দম্পতিত ছোট মেয়ে সিসিলিয়া জানিয়েছে, তাঁর বাবা-মার স্মৃতিশক্তি এখনও তীক্ষ্ণ। বাবা এখনও টিভি দেখতে পছন্দ করেন, এবং মা সকালে উঠে এখনো নিয়মিক কাগজ পড়েন।