ফের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সম্পূর্ণ লকডাউনে ফিরছে যুক্তরাজ্য। সোমবারই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানিয়ে দিয়েছেন  সম্ভবত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে এই লকডাউন। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই লাগু হবে এই লকডাউন। করোনার 'স্পাইরাল এফেক্ট' ঠেকাতেই ফের লকডাউনেপর শরণাপন্ন হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনসন।

সোমবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই কথা জানিয়েছেন। ইতিমধ্য়েই ইংল্যান্ডে করোনাভাইরাস মনিয়ে বহু বিধি নিষেধ জারি রয়েছে। কিন্তু তাতে বিশেষ কাজ হয়নি। এই দেশে কোভিডে মৃত্যুর হার খুব বেশি। আরও সংক্রামক নতুন রূপান্তরটি আসার পর ইংল্যান্ডের এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। জনসন জানিয়েছেন সোমবার পর্যন্ত, তাঁদের দেশে হাসপাতালে ভর্তি আছেন প্রায় ২৭,০০০ করোনা রোগী। এই সংখ্যাটা গত বছরের এপ্রিলের প্রথম দিকে, যে সময়টাকে প্রাদুর্ভাবের শিখর বলে ধরা হয়, সেই সময়ের থেকেও ৪০ শতাংশ বেশি। তাই আরও কড়া বিঝিনিষেধ করা দরকার, বলে জানিয়েছেন জনসন। আর সেখান থেকেই 'জাতীয় লকডাউন'এর সিদ্ধান্ত।

গত বছরের মার্চ মাসের শেষ থেকে জুন পর্যন্ত ব্রিটেনে যেরকম কড়া লকডাউন ছিল, আবারও সেই রাস্তায় গেল তারা। প্রাইমারি, সেকেন্ডারি সব স্কুল বন্ধ, যথাসম্ভব বাড়ি থেকে কাজ করা, যোগ-ব্যায়াম, প্রয়োজনীয় কেনাকাটা এবং চিকিত্সা সরবরাহ ছাড়া বাড়ি থেকে না বের হওয়া, সামাজিক মেলামেশা বন্ধ রাখার মতো বিধি-নিষেধ ফিরছে আবার। জনসনের ঘোষণার আগেই ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের চার প্রধান মেডিকেল অফিসার জানিয়েছিলেন, যুক্তরাজ্যে যদি আরও কড়া ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, ২১ দিনের মধ্যে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়বে। হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে করোনা টিকাকরণ শুরু করেছিল ইংল্য়ান্ড। ফাইজার-এর টিকা দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল ডিসেম্বরেই। তারমধ্যেই ধরা পড়েছিল নতুন স্ট্রেন। তারপর, ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড টিকাকেও। তারপরেও এই কড়া বিধিনিষেধের পথে যেতে হচ্ছে তাদের। তাহলে কি ভ্যাকসিনেই শেষ হবে না করোনা মহামারির?