লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিন ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক রক্তাক্ত সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর পর থেকেই চিনা পণ্যাদি সহ সামগ্রিক ভাবেই চিনকে বয়কট করার ডাক উঠেছে ভারতে। 'বয়কট চিন' স্লোগান দেওয়া টি-শার্ট, টুপির এখন দারুণ চাহিদা ভারতে। ভারতের এই বাজার ধরতে চিনেই কি উত্পাদিত হচ্ছে এই টুপি, টিশার্ট?

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন নেটিজেন দাবি করেছেন, চিনেই এই টি-শার্ট এবং টুপিগুলি তৈরি করা হচ্ছে। চিনের তৈরি টুপি টিশার্ট পরেই ভারতীয়রা চিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অর্থাৎ, সেই প্রতিবাদের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে চিনই। এই বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা শেয়ার করছেন। ভারতে এই উচ্চ চাহিদার বাজার ধরতে চিন কি এতটাই নিচে নামল? প্রতিবাদ দেখাতে গিয়েও কি চিনের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন ভারতীয়রা?

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান চালাতে গিয়ে দেখা গিয়েছে ওই প্রতিবেদনটি গত ৪ জুন একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল। সঙ্গে 'চিনের তৈরি' বয়কট চিন মার্চেন্ডাইস-এর ছবিও প্রকাশ করা হয়েছিল। ছবিটিতে 'দ্য ফক্সি' লেখা ওয়াটারমার্ক রয়েছে। খোঁজ করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, 'দ্য ফক্সি' ওয়েূসাইটটি একটি ব্যঙ্গাত্মক খবরের পোর্টাল। অর্থাৎ, এই ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু সবই কল্পিত। পাঠকদের তারা বলেই দিয়েছে, 'দ্য ফক্সি'তে প্রকাশিত নিবন্ধগুলি সত্যি নয়। শুধু হাস্যরস সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখা।

অর্থাৎ, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে নিবন্ধের কথা উল্লেখ করে এই দাবি করা হয়েছে, সেই নিবন্ধটি একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। সেটি হাস্যরসের জন্য লেখা মিথ্যা তথ্যের নিবন্ধ। তা তো বোঝা গেল, কিন্তু, সত্যিই কি কোনও চিনা সংস্থা 'বয়কট চিন' লেখা জামাকাপড় তৈরি করছে? এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে 'বয়কট চিন' লোগো দেওয়া পণ্যের সন্ধান চালানো হয়েছিল গুগল সার্চ ইঞ্জিনে। তাতে বেশ কিছু ভারতীয় ও মার্কিন পণ্য বিক্রয়ের ওয়েবসাইট পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু, অনেক খুঁজেও এইরকম কোনও চিনা ওয়েবসাইট পাওয়া যায়নি। এমনকি চিনের সবচেয়ে বড় অনলাইন শপিং সাইট 'আলিবাবা'-তেও এমন কোনও পণ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, 'বয়কট চিন' লোগো দেওয়া পণ্য চিনই তৈরি করছে, বা এই পণ্যগুলি ব্যবহার করলে আখেরে চিনেরই লাভ হবে, এমন দাবি সর্বৈব মিথ্যা।