পুরুষদের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন বা টিকা গোপনাঙ্গে প্রয়োগ করলে নাকি এই প্রতিষেধক সবথেকে দ্রুত শরীরের সমস্ত অংশে পৌঁছে যায় এবং দ্রুত রোগমুক্তি ঘটে। এমনই দাবি করা একটি সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভাইরাল হওয়া ওই প্রতিবেদনে রয়েছে প্রথম সারির মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর লোগো। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনের সবথেকে বেশি কার্যকারিতার জন্য পুরুষদের ক্ষেত্রে গোপনাঙ্গেই টিকা দেওযার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তাররা। সত্যিই কি তাই?

সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই স্ক্রিনশটটি সিএনএন নিউজ-এর ওয়েবসাইটের ইন্টারফেসের স্ক্রিনশট। ইংরাজি ওই প্রতিবেদনটির শিরোনামের বাংলা করলে দাঁড়ায়,  লেখা রয়েছে, 'চিকিৎসকরা পুরুষাঙ্গে ভ্যাকসিন দিতে সুপারিশ করেছেন'। সঙ্গে এক পাশে গলায় স্টেথোস্কোপ লাগানো একজন চিকিৎসকের ছবি রয়েছে। আর অন্যপাশে রয়েছে পুরুষাঙ্গে ইঞ্জেকশন দেওয়ার একটি রেখাচিত্র। সেই চিত্রে আবার 'ইনজেকশন দেওয়ার নিরাপদ জায়গা' চিহ্নিতও করা রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০০ পুরুষকে নিয়ে করা এক গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে পুরুষাঙ্গে টিকা দিলেই তা সবথেকে দ্রুত শরীরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

সিএনএন-এর ওয়েবসাইট তন্ন তন্ন করে খুঁজেও এমন কোনও সংবাদ টিকাকরণ শুরু হওয়া থেকে এখন পর্যন্ত সময়ের   মধ্যে পাওয়া যায়নি। তবে ভাইরাল হওয়া প্রতিবেদনের সঙ্গে সিএনএন-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। প্রথমত, সিএনএন-এর সব প্রতিবেদনেই, প্রতিবেদকের নাম ও প্রকাশের তারিখ থাকে, ভাইরাল স্ক্রিনশটটিতে তা নেই। ফন্টের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে বলে মনে হয়েছে আপাত দৃষ্টিতে।

তবে তথ্য যাচাইকারী সংস্থা 'বুম' দাবি করেছে, যে চিকিৎসকের ছবি ওই প্রতিবেদনে পোস্ট করা হয়েছে, তিনি হলেন ডাক্তার মোহিতকুমার অদর্শন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডাক্তারি করেন। মোহিতকুমার জানিয়েছেন, তাঁর ছবি ব্যবহার করে ভুয়ো প্রতিবেদনের ছবি বানানো হয়েছে। তিনি পুরুষাঙ্গে টিকে দেওযার কোনও সুপারিশ করেননি।

এছাড়া, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, টিকা সাধারণত দেওয়া হয় হাতে অথবা উরুতে। কারণ সেই ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অন্যদিকে পুরুষাঙ্গ গঠিত স্পঞ্জী কলা ও রক্তবাহ ধমনি দিয়ে। তাই টিকা প্রয়োগের জন্য পুরুষাঙ্গ মোটেই উপযুক্ত স্থান নয়। তাই, ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টটি একেবারেই ভূয়ো। সিএনএন-এর লোগো ব্যবহার করে কেউ এই প্রতিবেদনটি প্রযুক্তির কারিকুরিতে তৈরি করেছে।