ভারতের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকার ওপরেই ভরসা রাখছে নেপাল। চিনের সঙ্গে সম্পর্ক যতই ভালো হোক না কেন, তাদের তৈরি  করোনা টিকার ওপর এখনও পর্যন্ত তেমন আস্থা দেখাতে পারেন প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রটি। অথচ চিন অনেক আগেই টিকা সরবরাহ করার আবেদন জানিয়ে রেখেছে নেপাল সরকারের কাছে। জানুয়ারি মাসেই ভারত সফরে আসছেন নেপালের বিদেশ মন্ত্রী প্রদীপ জ্ঞাওয়ালি। ১৪ জানুয়ারি তিনি বৈঠক করতে পারেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে। সূত্রের খবর সেই সময় দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । 


জানুয়ারির মাসের প্রথম দিকেই জ্ঞাওয়ালির ভারত সফরে আসার কথা ছিল। কিন্তু ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে আচমকাই নেপালের সরকার ভেঙে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি শর্মা। নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশমন্ত্রীর সফরও কিছুটা পিছিয়ে গেছে। সূত্রের খবর জানুয়ারি মাসের মাঝের দিকে তিনি যখন ভারতে আসবেন তখন করোনাভারাসের ভ্যাক্সিনের ১২ মিলিয়ন ডোস যাতে সেদেশে দ্রুততার সঙ্গে পাঠান হয় তা নিয়ে আলোচনা করবেন। সূত্রের খবর নেপাল সরকার ভারত থেকেই করোনাভ্যাক্সিন পেতে আগ্রহী। সূত্রের খবর ভারত সরকারেও নেপাল সরকারের আবেদন মঞ্জুর করবে। 

চিনের রক্তচক্ষু তিব্বতের ওপর, মার্কিন বিল নিয়ে অহংকার ভাঙতেই কি লাসায় বিমান মহড়া ...

করোনা-টিকাকরণ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় ১০টি তথ্য, বাধ্যতামূলক করা হয়েছে আধারকার্ড ...

চিনের করোনা-টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থা সিনোভা বেশ কয়েক দিন আগেই নেপালে করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ করার আর্জি জানিয়েছে। কিন্তু নেপাল সরকারের প্রথম পছন্দ ভারতের তৈরি করোনা-টিকা। আর সেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে জ্ঞাওয়ালির ভারত সফরের সময়। যদিও ভারতের দায়িত্বে থাকা নেপালেন রাষ্ট্রদূত নীলাম্বর আচার্য ইতিমধ্যেই ভারতীয় ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার ভারত বায়োটেকের প্রধান কৃষ্ণার সঙ্গে তিনি সর্বশেষে বৈঠকটি করেছিলেন। সূত্রের খবর সেই বৈঠকও করোনা-টিকা সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। 

বেশ কয়েক বছর ধরে চিন অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ও সাহায্যের জন্য নেপালে বেশ কয়েক বিলিয়ন ডরাল লগ্নি করেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলির সঙ্গে রাষ্ট্রপতি শি জিংপিং-এর সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তাতেই কিছুটা হলে দেশের মধ্যে সমস্যায় পড়তে হয় ওলিকে। দেশীয় রাজনীতিতে তিনি জনপ্রিয়তা হারাতে থাকেন। এই অবস্থায় চিনও ওলিকে ছেড়ে তাঁর বিরুদ্ধপন্থী প্রচন্ড ও মাধব নেপালের হাত ধরতে এগিয়ে যায়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। এই অবস্থায় ওলি ভারতের করোনা-টিকার ওপর আস্থা রেখে কী অন্যকোনও রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছেন?সেটাই এখন দেখার বিষয় হয়ে উঠেছে।