১৩ বছরের ছেলেটার পাঁজরে ক্য়ানসার। একেবারে গ্রেড ফোর। অ্য়াডভান্সড স্টেজ।  আর ঠিক এই অবস্থায় সে হারিয়ে ফেলেছে তার বন্ধু জেনাকে। জেনের সঙ্গে তার যখন পরিচয়, তখন মারণরোগ তাকে গ্রাস করেনি। জেনাকে সে এখন খুঁজে চলেছে। খুঁজেই চলেছে। জেনাকে খুঁজে না-পেলে মৃত্য়ুই  তার কাছে শ্রেয়। কারণ জেনাই তার হারিয়ে যাওয়া জীবন। যে জীবনে ছিল না কর্কটের গ্রাস।  ছিল না কেমোথেরাপি  আর রেডিয়োলজির দাপাদাপি।  যে জীবন ছিল খেলে বেড়ানোর জীবন। যে জীবন ফুরফুরে হাওয়ায় ভেসে যাওয়ার জীবন। তাই সেই জীবনকেই সে ফিরে পেতে চায়। তাই জেনাকে সে খুঁজছে। খুঁজেই চলেছে।  

ছেলেটির নাম জ্য়াক মার্টিন। আর জেন হল  তার ২ বছরের কুনহাউন্ড রোডেশিয়ান কুকুর। ঘুম থেকে উঠে সকাল বেলায় আলোয় জেনাকে জড়িয়ে শুয়ে থাকত জ্য়াক। আর দিনান্তবেলার আবছা অন্তিম আলোয় তার সঙ্গে খেলত। ভারি ন্য়াওটা ছিল কুকুরটা। কিন্তু হঠাৎ করেই সব কীরকম এলোমেলো হয়ে গেল। গেল বছরের অক্টোবর মাসে জ্য়াকের ক্য়ানসার ধরা পড়ল। তা-ও একেবারে শেষ পর্যায়ের। ডাক্তারি পরিভাষায় যাকে বলে স্টেজ-ফোর। আর তার পর থেকেই হারিয়ে গেল ছোট্ট জেন। তাই ভারি মন খারাপ। একে তো পাঁজর ভরতি বিরলতম ক্য়ানসার। তার  ওপরে জেনা নেই। তার সেই খেলে বেড়ানোর জীবন নেই। তবু পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ নিয়ে সে তার হারিয়ে যাওয়া জীবনকে খুঁজে বেড়ায়। জেনাই তো তার সেই হারিয়ে যাওয়া জীবন। তাই জেনাকে খুঁজে  পেতে সোশাল সাইটে সে আবেদন রেখেছে তার সহনাগরিকদের কাছে। শিকাগোর এই ঘটনাটি খানিক নাড়িয়ে দিয়েছে নেটিজেনদের।

জানুয়ারি ৪ তারিখ থেকে হারিয়ে গিয়েছে জেনা, বারিংটনের ওল্ড পেনি রোড থেকে। আর তারপর থেকেই জ্য়াকের মা-বাবা তন্নতন্ন করে খুঁজে চলেছে জেনাকে। জ্য়াক যখন হাসপাতালে ভরতি ছিল এই মাসের গোড়ার দিকে, তখনই হারিয়ে যায় জেনা। খবর পেয়ে মন খারাপ হয়ে যায় জ্য়াকের। খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। জেন যেন  তার হারিয়ে যাওয়া হাসিখুসি জীবনের প্রতীক। তাই বাঁচতে গেলে ডাক্তারবদ্য়ির চেয়ে দরকারি হল  জেনাকে খুঁজে পাওয়া।

যদি জেনার খোঁজ পান অবশ্য়ই জানাবেন কিন্তু। রবি ঠাকুরের অমলের মতোই সে কিন্তু জানলার দিকে তাকিয়ে চেয়ে রয়েছে আপনার দিকে আর বলতে চাইছে, 'আমার অতীত নেই, ভবিষ্য়ৎ ও নেই কোনোখানে।'