বর্তমানে গোটা বিশ্ব কাবু করোনা সংক্রমণে। সমস্ত দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মারণ ভাইরাস। পৃথিবীর ২২০টিরও বেশি দেশে জাল বিস্তার করেছে কোভিড ১৯। আক্রান্তের সংখ্যা গোটা বিশ্বে ৭৭ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪ লক্ষ ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষের। আর এই মারণ ভাইরাসে দিশেহারা অবস্থা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ আমেরিকার। মার্কিন মুলুকে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। প্রাণ গিয়েছে এক লক্ষেরও বেশি আমেরিকাবাসীর। প্রথম থেকেই বিশ্বে এই মারণ সংক্রমণের জন্য চিনকে কাঠগোড়ায় তুলে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর সেই চিনেই এবার করোনা সংক্রমণের কারণে নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করতে হল।

গত বছর ডিসেম্বরে চিনের উহানে প্রথম করোনা সংক্রমণের কথা জানা যায়। তারপর গত পাঁচ মাসে তা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়েছে। প্রথম চিন মহামারীর কেন্দ্র হলেও গত মার্চের শেষ থেকেই পরিস্থিতি নয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে বেজিং প্রশাসন। তার ফলে গত এপ্রিলে লকডাউন তুলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরে করোনার উৎসস্থল উহানও। কিন্তু সম্প্রতি খবর পাওয়া গিয়েছে, দেশটিতে নতুন করে করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার তারজন্যই রাজধানী বেজিংয়ের একাংশে ফের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আর বেজিং জুড়ে জারি করা হয়েছে যুদ্ধকালীন জরুরী অবস্থা।

সব রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দৈনিক আক্রান্ত সাড় ১১ হাজার, দেশে সংক্রমণ এবার ছাড়াল ৩ লক্ষের গণ্ডি

মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ১ লক্ষ, এবার বাংলাদেশ থেকে রেমডেসিভির আনাচ্ছেন উদ্ধব

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবহেলা করেছে সরকার, দীর্ঘ জেরার সম্মুখীন স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী বেজিংয়ের কিছু অংশ নতুন করে করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় এগারোটি আবাসিক এলাকা পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। আবাসনগুলি সংলগ্ন একটি মাংসের বাজারের খুব কাছেই ধরা পড়েছে করোনা ক্লাস্টার। জিনফাদি মিট মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫১৭ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৫ জনের শরীরে মারণ ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। 

করোনা সংক্রমণ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার খবর সামনে আসতেই ওই মাংসের বাজারের ৪ হাজারের বেশি দোকান জীবাণুমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বেজিংয়ের স্কুল ও কিন্ডারগার্ডেনও বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।  সঙ্গে সঙ্গে বেজিংয়ের সব খেলাধুলোর ইভেন্ট, আন্তঃপ্রদেশ পর্যটন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ 

 করোনা ভাইরাস আক্রান্তের খোঁজ মিলতেই বেজিংয়ের ৯০ শতাংশ বাজারই  বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ শুক্রবার চিনে মোট  ১৮ জনের দেহে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। তার মধ্যে ৭ জনের শরীরে কোনও উপসর্গ নেই৷ এর মধ্যে ৬ জনই বেজিংয়ের৷

গত বছর ডিসেম্বরে উহানের সি-ফুড মার্কেট থেকেই প্রথম করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছিল বলে মনে করেন অনেকই। চিনের যে বাজারে বণ্যপ্রাণী বিক্রি হয় তা ওয়েট মার্কেট হিসেবেই পরিচিত। বিশ্ব জুড়ে করোনা ছড়ানোর পর চিনের ওয়েট মার্কেটগুলি সম্পর্ণ বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আমেরিকা। তার জেরেই বর্তমানে কুরুর সহ বেশ কিছু প্রাণীর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে চিনের এই ওয়েট মার্কেটগুলিতে। করোনার উৎপত্তিস্থল উহান থেকে লকডাউন তুলে নেওয়ার পরে ফের ওই শহরে ওয়েট মার্কেট খুলেছে বলেই খবর পাওয়া গিয়েছে। এবার ফের চিনের রাজধানী বেজিং-এর বাজার থেকেই খবর আসছে করোনা ছড়ানোর। এই ঘটনার পরে চিনে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।অনেক বিশেষজ্ঞই হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, জুনমাসে চিনে মারণ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়বে।  শুধু তাই নয়, মাসের  মাঝামাঝি সময়ে সংখ্যাটা দৈনির  ১৫ হাজারেও পৌঁছে যেতে পারে।