দিদিমার গর্ভে নাতনির জন্ম! হ্যাঁ এমনই অদ্ভূত কাণ্ড ঘটেছে আমেরিকার মিনেসোটা প্রদেশে। আভা রাই এবং এভারলি রোজ, দুজনেই কাইল এবং কেলসি পিস-এর সন্তান হলেও, আভার জন্ম দিয়েছেন কেলসি আর এভারলি বেড়ে উঠেছে কেলসি-র মা লিসা রাদারফোর্ডের গর্ভে।

২০১৬ সালে বিয়ে হয়েছিল কাইল ও কেলসির। তার পরের বছর থেকেই তাঁরা সন্তানের জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বেশ কয়েকবারের ব্যর্থতার পর চিকিত্সকরা জানিয়েছিলেন কেলসি-র শরীরে ইস্ট্রোজেন কম, এছাড়া তাঁর ফ্যালোপিয়ান টিউবেও ব্লক রয়েছে, এমনকী গর্ভাবস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর জরায়ুর আস্তরণটিও খুব পাতলা।

এরপর দীর্ঘ চিকিৎসায় শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন কেলসি। কিন্তু তারপরেও আশানুরূপ কোনও ফল দেখা যায়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে, তাঁরা সারোগ্যাসি বা দত্তক নেওয়ার কথাও চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু, দুটোর কোনওটির জন্য়ই তাদের আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। সেই সময়ই কেলসির মা একটি চিকিৎসা সংক্রান্ত ম্যাগাজিনে দেখেছিলেন এক ৫০ বছর বয়সী মা-ও তাঁর মেয়ের সন্তান নিজের গর্ভে ধারণ করতে পারেন ভ্রুন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে।

এরপর কেলসি-র দেহ থেকে ভ্রুন প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল লিসার দেহে। দিন আটেক পরই কেলসি জানতে পেরেছিলেন তাঁর মায়ের গর্ভে তাঁর সন্তানের হৃদস্পন্দন শোনা গিয়েছে। ভ্রুনটি ভাল আছে। গর্ভবতী হওয়ার সমস্ত আশা হারিয়েও তিনি অবশ্য নিজের গর্ভাবস্থার পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত মার্চ মাসে তিনি জানতে পারেন, তিনি নিজেও গর্ভবতী। ঠিক করা হয়, কেলসি এবং লিসা দুজনেই কেলসির দুই ,সন্তানের জন্ম দেবেন।

৩৬ সপ্তাহের গর্ভাবস্থার মাথায় লিসা রাদারফোর্ড সম্পর্কে তাঁর নাতনি এভারলি রোজ-এর জন্ম দেন। সিজারিয়ান পদ্ধতিতে দন্ম হয় রোজজ-এর। ফুসফুসের জটিলতার কারণে তাকে দিন ছয়েক আইসিইউ-তে রেখে তারপর বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়। কেলসি জানিয়েছেন, তাঁর নিজের গর্ভে বেড়ে ওঠা সন্তানের কথা ভাবতে ভাবতেই তিনি রোজ-এর জন্মেপর খবরে নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন যে, অবশেষে তিনি মা হতে পেরেছেন। তারপর থেকেই দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম নিয়েও সব সংশয় চলে গিয়েছিল তাঁর। গত মাসেই তিনি জন্ম দিয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় কন্যা আভা রাই-এর। দুই সন্তানই সুস্থ রয়েছে। এই ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে রয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।