- Home
- World News
- International News
- ইরান বিক্ষোভ: ইন্টারনেট বন্ধ, ৬৪৮ জনের মৃত্যু, কেন লুকিয়ে রাখা হচ্ছে আসল তথ্য?
ইরান বিক্ষোভ: ইন্টারনেট বন্ধ, ৬৪৮ জনের মৃত্যু, কেন লুকিয়ে রাখা হচ্ছে আসল তথ্য?
ইরানে বিক্ষোভ চলাকালীন ৬৪৮ জনের মৃত্যুর দাবি উঠেছে, এটাই কি আসল সত্যি? ইন্টারনেট বন্ধ, হাজার হাজার মানুষ গ্রেপ্তার, মর্গের বাইরে লাশের সারি... সরকার কি সহিংসতার আসল চিত্র বিশ্ব থেকে লুকাচ্ছে?

ইরান বিক্ষোভ ২০২৬: ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভ এখন শুধু মূল্যবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে, সরকারি পদক্ষেপে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নয়জন নাবালকও রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো।
ইন্টারনেট বন্ধ করে কি সত্যি লুকানো হচ্ছে?
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানের ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। নেটব্লকসের মতে, ইরানে সাড়ে তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ। এর উদ্দেশ্য কি হিংসার আসল চিত্র লুকানো? নরওয়ের এনজিও ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় মৃত্যু ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
৬৪৮ মৃত্যু নাকি ৬,০০০-এর বেশি? আসল সংখ্যা কত?
IHR আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আসল সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। কিছু অনুমান অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৬,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া প্রায় ১০,০০০ জনকে গ্রেপ্তারের খবরও সামনে এসেছে। এই পরিসংখ্যান ইরানের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে।
মর্গের বাইরে লাশের সারি কীসের ইঙ্গিত দেয়?
ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কিছু ভিডিও সামনে এসেছে। এএফপি দ্বারা জিওলোকেট করা একটি ভিডিওতে তেহরানের দক্ষিণে একটি মর্গের বাইরে কয়েক ডজন লাশ দেখা গেছে। শোকাহত পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এই দৃশ্য প্রমাণ করে যে ইরানের পরিস্থিতি সরকারি দাবির চেয়ে ভিন্ন।
এই বিক্ষোভ কি ইসলামী শাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ?
এই বিক্ষোভ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রথমে এটি অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে শুরু হলেও এখন তা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে। সরকার এর জবাবে দেশব্যাপী সমর্থন সমাবেশের আয়োজন করেছে এবং বিক্ষোভকে "দাঙ্গা" বলে অভিহিত করেছে।
"চার ফ্রন্টে যুদ্ধ" এর অর্থ কী?
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেছেন, ইরান চারটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে—অর্থনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাথে সামরিক সংঘর্ষ এবং "জঙ্গিদের" (অর্থাৎ বিক্ষোভকারী) বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এই বিবৃতি প্রমাণ করে যে সরকার বিক্ষোভকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।
বিশ্বের প্রতিক্রিয়া কী?
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে এবং ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় হিংসার নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া এটিকে বিদেশি হস্তক্ষেপ বলে ইরানের পক্ষ নিয়েছে।
ইরান কি বড় কোনো সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে?
আমেরিকা, ইউরোপ, রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সক্রিয়তা ইঙ্গিত দেয় যে ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ, ক্রমবর্ধমান মৃত্যু এবং বিশ্বব্যাপী চাপ—এইসব প্রশ্ন তুলেছে যে আগামী দিনগুলো ইরান ও বিশ্বের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।
ইরানের মানবাধিকার রিপোর্ট: বিশ্বজুড়ে নিন্দা
নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) দাবি করেছে, আসল মৃতের সংখ্যা হাজার হাজার হতে পারে এবং প্রায় ১০,০০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে, ফ্রান্স সহিংসতার নিন্দা করেছে, এবং রাশিয়া বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে।

