গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স বা জিটিআই ২০২০ তে অষ্টম স্থানে রয়েছে ভারত। ১০ এর মধ্যে ভারতের জিটিআই স্কোর ৭.৩৫৩। ভারতের ঠিক উপরেই রয়েছে পাকিস্তান। তারা আছে সপ্তম স্থানে, স্কোর ৭.৫৪১। বিশ্বব্যপী কোন দেশে সন্ত্রাসবাদের কী প্রভাব পড়ছে তা পরিমাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস, প্রতিবছর এই ইনডেক্স প্রকাশ করে। এই বছরের পরিসংখ্যান বলছে, এই বছর গোটা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের কারণে মৃত্যু হয়েছে ১৩,২৮৬ জনের, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম।

ভারতে সন্ত্রাসবাদ

জিটিআই ২০২০ অনুযায়ী ২০১৯ সালে মোট ৫৫৮ টি সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে ভারতে। তাতে মৃত্যু হয়েছে ২৭৭ জনের আর আহত হয়েছেন ৪৩৯ জন। সবথেকে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চল ছিল জম্মু ও কাশ্মীর। এই নয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১৬৫ টি সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১০৩ জনের। কাশ্মীরে সবচেয়ে সক্রিয় তিনটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী জইশ-ই-মহাম্মদ (জেইএম), হিজবুল মুজাহিদিন এবং লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি)। কাশ্মীরের পর ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্য ছত্তিশগড়। ৮৫ টি মাওবাদী হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দক্ষিণ এশিয়ায়

আঞ্চলিকভাবে, দক্ষিণ এশিয়াই সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হিসাবে উঠে এসেছে। বিশ্বের অন্যান্য যে কোনও অঞ্চলের তুলনায় এই অঞ্চলের দেশগুলিতে মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে শীর্ষে থাকা আফগানিস্তানও এই অঞ্চলেরই। তাদের স্কোর ১০-এর মধ্যে ৯.৫৯২।

 

অন্যান্য সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ

আফগানিস্তানের পরই সন্ত্রাসধ্বস্ত দেশগুলির তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইরাক, স্কোর ৮.৬৮২ এবং নাইজেরিয়া ৮.৩১৪।

সবচেয়ে শান্তির দেশগুলি

সবচেয়ে শান্তির দেশগুলির মধ্যে জিটিআই ২০২০ তালিকায় ১৩৩তম স্থানে রয়েছে কাতার, তাদের স্কোর ১০-এর মধ্যে ০.০১৪। তারপর ১৩৪ তম স্থানে আছে  উজবেকিস্তান, স্কোর ০.০১০। আর ২৯ টি দেশ রয়েছে ১৩৫ তম স্থানে। এদের প্রত্যেকটির স্কোর ১০-এ ০, অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদ এইসব দেশগুলিতে কোনও প্রভাবই ফেলেনি। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশই তালিকার উপরের দিকে থাকলেও, এই অঞ্চলের দেশ হয়েও ১৩৫তম স্থানে থাকা দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভুটান-এর নামও।