আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ডুরান্ড লাইন বরাবর সীমান্ত সংঘর্ষ চরমে উঠেছে। আফগানিস্তানের দাবি, পাকিস্তানের হামলার জবাবে তারাও সে দেশের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘ, চীন, রাশিয়া অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছে। 

আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের মধ্যে ডুরান্ড লাইন বরাবর নতুন করে সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ দুই পক্ষকেই সংযম দেখানোর আর তাড়াতাড়ি যুদ্ধবিরতির আবেদন জানিয়েছে।

জানা গেছে, রাতভর দুই দেশের সেনার মধ্যে চলা এই সংঘর্ষে সামরিক ঘাঁটি ও সাধারণ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তের দুই দিকেই হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

আফগান-পাক যুদ্ধে উত্তপ্ত সীমান্ত

এর মধ্যেই আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে যে, পাকিস্তান তাদের দেশের কাবুল, কান্দাহার এবং পাক্তিয়া প্রদেশে বিমান হানা চালিয়েছে। এর জবাবে তারাও পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ তাদের বায়ুসেনা ইসলামাবাদের ফৈজাবাদের কাছে একটি মিলিটারি ক্যাম্প, নওশেরার একটি সামরিক ঘাঁটি, জামরুদে সেনার অবস্থান এবং অ্যাবোটাবাদের কয়েকটি জায়গায় বিমান হানা চালায়।

পোস্টে বলা হয়েছে, "আজ সকাল প্রায় ১১টায়, জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বায়ুসেনা ইসলামাবাদের ফৈজাবাদের কাছে একটি মিলিটারি ক্যাম্প, নওশেরার একটি সামরিক ঘাঁটি, জামরুদে সেনার অবস্থান এবং অ্যাবোটাবাদের কয়েকটি জায়গায় সমন্বিত বিমান হানা চালিয়েছে।"

পোস্টে আরও যোগ করা হয়, "এই বিমান হানা সফল হয়েছে। পাকিস্তানের মূল সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে নিশানা করা হয়েছিল। গত রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর কাবুল, কান্দাহার এবং পাক্তিয়াতে বিমান হানার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"

উদ্বেগ রাষ্ট্রসংঘের

এই উত্তেজনার আবহে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জিনহুয়া সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন যে মহাসচিব পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন এবং সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেছেন। ডুজারিক বলেন, "মহাসচিব দুই পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত মতপার্থক্য মেটানোর জন্য অনুরোধ করছেন।" তিনি সাম্প্রতিক মাসগুলিতে কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেন।

চীনও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জিনহুয়ার খবর অনুযায়ী, চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বের

একই সুর শোনা গেছে রাশিয়ার গলাতেও। রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, মস্কো এই সশস্ত্র সংঘর্ষের তীব্রতায় উদ্বিগ্ন। তিনি দুই দেশকেই সংঘাতের পথ ছেড়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, এই অঞ্চলে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির খবর অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদকে ফোন করেছিলেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। ফোনালাপে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং কীভাবে উত্তেজনা কমিয়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। এই সব মিলিয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার জন্য চাপ দিলেও, একটি বড়সড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।